বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি মৌলিক পদক্ষেপ হলো নীতি সুদহার বাড়ানো। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতেও দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে নীতি সুদহার। এছাড়া দেশে চলমান অস্থিরতায় অনেক পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। এতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বিক্রিতে ধস নেমেছে।
এমন পরিস্থিতি বাড়তি চাপ তৈরি করছে ব্যবসায়ীদের ওপর। ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ী নেতাদের।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীতে ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ: অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলা হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সম্মেলন কক্ষে এই সংলাপের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
বর্তমানে কোনো ব্যবসায়ী স্বস্তিতে নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)-এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘যেখানে আছি, সেখান থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি। মূল্যস্ফীতি একটা কারণ। উৎপাদনের খরচ বাড়ছে। গ্যাসের সরবরাহ নাই, উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে৷’
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুদহার, যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে জানান তিনি। বিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এমন অনিশ্চয়তা থাকলে কেউ ব্যবসায় আসবে না।’ এক্ষেত্রে আস্থা বাড়ানো উচিত এবং সবার সুরক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বিসিআই সভাপতির মতোই একই মত ব্যক্ত করেছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন। তিনি বলেন, নীতি সুদহার বাড়ানো হচ্ছে৷ বেনিফিট কোন ব্যবসায়ী পাবে? এগুলোকে নির্ণয় করতে হবে।
কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এত বেশি পরিমাণ সুদ দিয়ে টিকে থাকতে পারবে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেন মীর নাসির। এছাড়াও সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সমালোচনা করেন এ ব্যবসায়ী নেতা।
তিনি বলেন, ‘আমি যখন দেখি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে বাজারে অর্থ সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতি কমানো হবে, তখন অবাক হই। কিন্তু আমরা শুনি কারওয়ান বাজারে এক কোটি টাকার চাঁদা উঠে। যাত্রাবাড়ী ও গাবতলীতেও তাই। এসব বিবেচনায় না নিয়ে মূল্যস্ফীতি কমবে না।’
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপ্রতুলতা ও সরবরাহের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি। তার মতে, সুদের হার সকল খাতের সহনীয় ক্ষমতা এক না।