অভিনেতা পরিচয়ের বাইরেও তিনি একজন চাকরিজীবী। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে কর্মরত রয়েছেন। চাকরির পাশাপাশি সময় ব্যালেন্স করেই অভিনয় করেন তিনি। বলছিলাম জনপ্রিয় অভিনেতা সাঈদ জামান শাওন এর কথা। শিগগিরই মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন ওয়েব সিনেমা ‘৩৬-২৪-২৬’। সিনেমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন ইমরুল নূর
ওয়েব ফিল্মটি প্রসঙ্গে জানতে চাই ...
ওয়েব ফিল্মটি সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বানানো। আমাদের আশপাশে ঘটে যাওয়া পরিচিত কিছু মুখ, খুব পরিচিত কিছু মানুষের ঘটনাই এখানে দেখতে পাবে দর্শক। এটা খুবই এন্টারটেইনিং একটা প্রজেক্ট। দর্শকরা এটা দেখে খুব মজা পাবে, বিনোদিত হবে এবং সবশেষে একটা মেসেজ পাবে গল্পটা থেকে।
এখানে আপনার চরিত্রটি ঠিক কী রকম?
এখানে আমার চরিত্রটির নাম তাহসির। সে ভীষণ কনফিউজড একটা ক্যারেক্টার। সেইসঙ্গে বেশ ইন্টারেস্টিং এবং ফানি ক্যারেক্টার। একটা সময়ে সে বন্ধু-বান্ধবের পাল্লায় পড়ে ভুল কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। করব কী করব না, যাব কী যাব না এ রকম একটা দ্বিধায় ভুগে। একটা সময়ে গিয়ে সে বুঝতে পারে যে, জীবনে কিছু করার জন্য কিংবা পাওয়ার জন্য নিজের প্রতি কিংবা নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ফিল্মটির নামটি একটু অন্যরকম অ্যাডাল্ট। এটা কি দর্শকের অ্যাটেনশনের জন্য নাকি অন্যকিছু?
যদি ওই অ্যাঙ্গেল থেকে বলা হয় যে আমাদের ফিল্মটির নাম ‘৩৬-২৪-২৬’ এ রকম কেন, তাহলে বলব আমাদের সমাজ একটা পারফেক্ট বডির রেশিও ঠিক করে দিয়েছে, বিশেষ করে মেয়েদের। সেদিক থেকে এটা একটু ইন্টারেস্টিং, এটাকে একটু এডাল্টও ধরা যায়। তবে কনটেন্টটি দেখার পর দর্শকরা বুঝবে যে, এটার থেকে যথার্থ নাম আর হতে পারে না। এই কনটেন্টটির নামকরণের সার্থকতা লিখে দিতে বললে আমি একটা ভাব-সম্প্রসারণও লিখে দিতে পারব।
এই প্রজেক্টে আপনার যুক্ত হওয়ার মতো বিশেষ এমন কী ছিল?
গল্পটি শোনার পরই এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত থাকার আগ্রহ তৈরি হয় আমার। কিন্তু তখনো আমি জানি না এখানে আমার চরিত্র কোনটি। আমি শুধু এতটুকুই বলেছি, আমি এই গল্পটার অংশ হতে চাই। গল্পটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। এরপর যখন আমাকে চরিত্রটা নিয়ে ব্রিফ করা হয়, আই লাভড দ্য ক্যারেক্টার। এখানে ঝামেলা হচ্ছে, ওটিটিতে একটা চরিত্রে কাজ করার পরে ঠিক ওইরকম চরিত্র কিংবা কাছাকাছি ডিজাইনের চরিত্রের প্রস্তাব আসতে থাকে বেশি। যেটা আসলে আমি করতে চাই না। আমি চাই, প্রথম চরিত্রটা থেকে পরেরটা একটু ভিন্ন হোক। যেমন কাবাডি-তে আমার ক্যারেক্টার এক রকম, মোবারকনামায় আরেকরকম আবার এই ‘৩৬-২৪-২৬ ’-এও একটু অন্যরকম। চরিত্রগুলো যত ভিন্ন হবে সেটা আমাকে তত বেশি আকর্ষিত করে। চরিত্রটি যখন পেয়েছি তখন মনে হয়েছে এখানে কিছু করার সুযোগ রয়েছে, সেজন্য কাজটি করতে রাজি হই।
ওয়েব ফিল্ম হিসেবে নির্মাণ হলো, রিলিজ হচ্ছে সিনেমা হলে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন আর এটা কতটুকু পজিটিভ?
টেলিভিশন, ওটিটি কিংবা বড় পর্দা প্রত্যেকটি মাধ্যমের কাজেরই কিন্তু ল্যাংগুয়েজ আলাদা। কনটেন্টটি নির্মাণ হয়েছে ওটিটির জন্য কিন্তু কেন সিনেমা হলে দেওয়া হচ্ছে, সেটা আসলে আমি জানিনা। তবে আমি মনে করি, একটা কনটেন্ট যদি অনেক ভালো কিংবা পজেটিভ কিছু হয় তাহলে সেটা দর্শকদের জন্য সিনেমা হলে দেওয়া উচিত। ওটিটির কনটেন্ট সিনেমা হলে কিংবা সিনেমা হলের কনটেন্ট ওটিটিতে মুক্তি দেওয়া যাবে না, এ রকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলেই আমার ধারণা। আমি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। তবে হ্যাঁ, যদি আমরা আরেকটু বড় পরিসরে, সুন্দর করে, সময় নিয়ে করতে পারতাম তাহলে হয়তো দর্শকদের আরও বেশি বিনোদিত করা যেত। আর কবে মুক্তি পাবে, সেটা নিয়ে একটু ধোঁয়াশা রয়েছে। এখন ফিল্মটি সার্টিফিকেশন বোর্ডে রয়েছে। সেন্সর পেলেই হয়তো মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে।
অন্যান্য কাজ কী কী করছেন সেগুলো নিয়ে একটু আপডেট জানাবেন।
নাটক তো কমই করা হয় আমার। সামনে দুটো ওয়েব প্রজেক্ট নিয়ে কথা হচ্ছে। এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। হলে তখন জানাতে পারব।