এবারও হলো না। ভাল সম্ভাবনা জাগিয়েও পাড়লো না বাংলাদেশের ছেলেরা। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব উতরাতে পারেনি সাইফুল বারী টিটুর শীষ্যরা। রবিবার নমফেনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে গ্রুপের শেষ ম্যাচে দুইবার লিড নিয়েও আফগাস্তিনারের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।
চূড়ান্ত পর্বের হিসেব মেলাতে হলে আজ জিততেই হতো বাংলাদেশকে। ম্যাচটা ড্র হলেও একটা সম্ভাবনা থাকতো। সমীকরণ মেলাতে বাংলাদেশ খেলেছেও জেতার জন্য। তবে বারবার লিড নিয়েও তা হারিয়েছে আফগানদের ক্রমাগত চাপে। শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়ে হারের তেতো স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
চার ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছয় পয়েন্ট। গ্রুপ রানার্স-আপ হওয়ার সুযোগও শেষ হয়ে গেছে তাদের। সমান ম্যাচ থেকে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপের সেরা হয়ে চূড়ান্তপর্বে গিয়েছে আফগানিস্তান। রবিবার রাতে স্বাগতিক কম্বোডিয়া ও ফিলিপাইনের একটি দল হবে গ্রুপ রানার্স-আপ।। ১০ গ্রুপ থেকে সেরা পাঁচ রানার্স-আপের সুযোগ আছে চূড়ান্তপর্বের টিকিট পাওয়ার। সেই সুযোগটাও নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
অথচ দারুণ সম্ভাবণা জেগেছিল তাদের। কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রথম ম্যাচে প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হারে তারা। এরপর টানা দুই ম্যাচে ফিলিপাইন ও ম্যাকাওকে হারায় তারা। রবিবার জয়ের আশা জাগিয়েছিল দলটি। ষষ্ঠ মিনিটে অপু রহমানের লম্বা থ্রোয়িং গোলমুখের জটলায় আসলে ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি আফগান কিপার আব্দুল রাহেম। চলন্ত বলে বাঁ পায়ের সাইড ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন মিঠু চৌধুরী। তবে ২৯ মিনিটে সমতায় ফিরেছে আফগানিস্তান। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে বাংলাদেশের কিপারের পরীক্ষা ইয়াসের শাফি। হাওয়ায় ভেসে তা জালে জড়ায়। একটু এগিয়ে থাকায় তার নাগাল পাননি বাংলাদেশ কিপার আলিফ রহমান।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লিড পুনরুদ্ধার করেন মোর্শেদ আলী। অধিনায়ক নাজমুল হুদা ফয়সালের কর্নার কয়েক পা ঘুড়ে চলে আসে ডান দিকে ফাঁকায় দাঁড়ানো মোর্শেদের কাছে। সাইডভলিতে গোলের আনুষ্ঠানিকতা সাড়েন তিনি।
বিরতি থেকে ফিরে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল বাংলদেশের। ৫৫ মিনিটে অপুর আরেকটি ভয়ঙ্কর কর্নারে শফিক রহমানের হেড কোন মতে আয়ত্বে নেন আফগান কিপার। ৬২ মিনিটে সতীর্থের ক্রসে ভালো জায়গায় বল পেয়েও হেডে গোল করতে পারেননি অধিনায়ক নুরুল হুদা ফয়সাল। এর দুই মিনিট পর ম্যাচে ফিরেছে আফগানিস্তান। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে নাওইন মাহবোবির শট দারুণভাবে ফিরিয়েছিলেন আলিফ। তবে ফিরতি বলে মোহাম্মদ মিলান নুরির প্লেসিং আর রুখতে পারেননি বাংলাদেশ কিপার। আর ৭০ মিনিটে ডিফেন্ডার মিঠু চৌধুরীর ভুলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাহবোবির সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে জিতেছিলেন মিঠু। তবে সেটা বক্স থেকে ক্লিয়ার করতে দেরি করে ফেলেন। মাহবোবি সেই বল পাস দেন আরস আহামাদিকে। চলন্ত বলে বল জালে জড়িয়ে বাংলাদেশের হৃদয় ভেঙে দেন আরস।