চন্দনাইশ 

স্ত্রীকে হত্যার পর মায়ের গলায় ছুরি ধরা সেই যুবলীগ নেতা কারাগারে

পারিবারিক কলহের কারণে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে যুবলীগ নেতা জমির উদ্দিন চৌধুরী (৪৫) তার স্ত্রী শফিকা কানম প্রকাশ বিউটি চৌধুরীকে (৩২) গলা কেটে হত্যা ও মায়ের গলায় ছুরি ধরার ঘটনায় তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় নিহত বিউটি চৌধুরীর ছোট ভাই  মিনহাজ আলম বাদী হয়ে একটা হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জমির উদ্দিন চৌধুরী (৪৫) নামের আসামি। চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহমুদুল হক এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। আসামি জমির উদ্দিন চৌধুরী চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সৈয়দাবাদ এলাকার মৃত নাসির উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে।

পরে জমির উদ্দিন চৌধুরীকে জেলহাজতে পাঠান আদালত। নিহত শফিকা কানম প্রকাশ বিউটি চৌধুরীর দুই সন্তানের জননী। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবার বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকায় পাঠানো হয়। 

পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় দিকে পারিবারিক কলহের কারণে আসামি জমির উদ্দিন তারকে গলা কেটে হত্যা করেন। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন তার মা শামসুন্নাহার (৯০)।  এ সময় জমিরের ভাইয়েরা এগিয়ে এলে আসামি ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। আসামি তার মাকে জিম্মি করে দরজার সামনে মায়ের গলায় (চাপাতি) দা ধরে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। 

পরবর্তীতে নিহত বিউটির মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। বিউটি আক্তারের গলা শ্বাসনালীসহ  প্রায় ৫ ইঞ্চি কাটা রয়েছে। তার মাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একটা ছুরি, একটি চাপাতি আকৃতির দা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমরান আল হোসাইন বলেন, জমিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আদালতে নেওয়া হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে কোরাগরে পাঠানো হয়।