নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে শতভাগ আশাবাদী এনডিএম

জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন মহাসচিব মোমিনুল আমিন বলেছেন, বর্তমানে দেশে যেহেতু একটি দল নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রয়েছে তাই তাদের অধীনে একটি নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। এজন্য ইসি পুনর্গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। স্বৈরাচারী হাসিনার বানানো ইসি গঠন আইনটি স্থগিত বা বাতিল করে যদি এই সার্চ কমিটি গঠন করা হতো তাহলে আরও খুশি হতাম। বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সংযোজন করে সার্চ কমিটিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে অন্তত একজন সদস্য নিয়োগ দিলে ভাল হতো।

আজ বুধবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন সংস্কারসংক্রান্ত গঠিত কমিশন যেন নির্বাচন কমিশন গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে তাদের প্রস্তাবনায় রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে প্রতিফলিত করে। সার্চ কমিটি ঠিক কি প্রক্রিয়ায় কাজ করবে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার কিভাবে সার্চ কমিটি গঠন করবে, ইসি নিয়োগে ন্যূনতম যোগ্যতা কি হবে, সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে কিভাবে চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি গণশুনানি এই কমিশন কর্তৃক আয়োজিত হওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের পাশে থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তবে আমরা গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর ভূমিকায় দেখতে চাই যেখানে সংবাদকর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং মূল্যায়ন থাকবে, সম্পাদকীয় নীতিতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং গণমানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিফলিত হবে এবং সবপক্ষের সংবাদ পক্ষপাতবিহীনভাবে সমান গুরুত্ব পাবে।

রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শুধু মনে করিয়ে দিতে চাই, রাষ্ট্রপতির অপসারণ ইস্যুতে যেই সাংবিধানিক সংকটের কথা বলা হচ্ছে সেই সংবিধান নানাভাবে কাটছাঁট করা একটা রাষ্ট্রীয় দলিল, যার উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে দীর্ঘায়িত করা। আমরা নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে এই সংবিধানের গুণগত সংস্কার চাই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক ১৭০০ কোটি ডলার পাচারের অভিযোগ এনেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাকে সরাসরি ব্যবহার করে এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, সামিট গ্রুপসহ প্রভাবশালী নানা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে অর্থপাচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিশ্বব্যাপী কি পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, কিভাবে তিনি অর্থপাচার করেছেন এসবের তথ্য অনুসন্ধান করতে আমরা দলীয়ভাবে পদক্ষেপ নেব।