ফেনীর সোনাগাজীতে ছাত্রলীগ প্রশ্রয় দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে ৩০ নেতাকর্মী আহত হওয়ার জেরে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ফেনী জেলা শাখার অধীন সোনাগাজী ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। শিগগিরই এ ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা হবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাহ উদ্দিন মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার দুপুরে সোনাগাজী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সংঘর্ষে মিরাজ ও রায়হান নামে দুই ছাত্রদল কর্মী আহত হয়। এ ঘটনায় কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব ওসমান গনি জিহাদ উপজেলা ছাত্রদল নেতা পিয়াসের অনুসারী ওমরকে দায়ী করেন।
প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে পৌরসভার জিরো পয়েন্টে পৌর ,কলেজ ও উপজেলা ছাত্রদলের ব্যানারে সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভুঞা হামলাকারী ওমরকে ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করে তাকে প্রশ্রয় দেওয়ায় দলের কয়েক নেতাকে দায়ী করেন। এবং ফের হামলার চেষ্টা হলে তাকে ধরে এনে জিরো পয়েন্টে পেটানোর ঘোষণা দেন।
রাতে আহত ছাত্রদল কর্মী রায়হান বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রদল নেতা মেজবাহ উদ্দিন পিয়াসসহ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে প্রতিদ্বন্ধী দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় মামলার প্রতিবাদে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহাগ নুর ও উপজেলা ছাত্রদল নেতা পিয়াসের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল জিরো পয়েন্টে থেকে পশ্চিম বাজারের দিকে যেতে থাকে। মিছিলটি তাকিয়া রোডের মাথায় পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা,অস্ত্র, ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে সেনা সদস্য ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহাগ নূর বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নিয়ে মঙ্গলবার তারা প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আমাদের হুমকি দিয়ে উত্তেজনা তৈরি করে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আমরা প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মিছিল শুরু করলে কোন প্রকার উসকানি ছাড়াই আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য সচিব ওসমান গনি জিহাদ বলেন, তারা দুই দিন আগে আমাদের দুই কর্মীকে পিটিয়ে আহত করার পর আজ ফের মিছিল নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। তাদের হামলায় আমাদের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, সংঘর্ষ শুরু হলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর রাতে আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আহতদের কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি।
ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২১ সালের ১ মে মাইনুল হককে আহ্বায়ক ও সোহাগ নূরকে সদস্য সচিব করে সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রদলের ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি গঠনের পর কয়েকমাস আহ্বায়ক কমিটি মিলেমিশে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাবে বিভক্ত হয়ে যায় সদস্যরা।