সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে পাওলি দাম অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘কাবেরী’। পারিবারিক কলহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিরিজটি। এতে অভিনয় করতে গিয়ে অভিজ্ঞতাসহ নিজের ব্যক্তিজীবনের নানা দিক নিয়ে কলকাতার এক গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা করেছেন অভিনেত্রী।
সাম্প্রতিককালে নিয়মিত ওটিটিতে কাজ করা প্রসঙ্গে পাওলি দাম বলেন, ‘অনেক আগেই ওটিটিতে কাজ করেছি। দর্শক ভুলে যান। ভাবেন ‘কালী’ হিন্দি ওয়েব সিরিজ়। আসলে সেই সময় ওটিটি নতুন এসেছে। মানুষ জানতেন না কী ভাবে ডাউনলোড বা সাবস্ক্রাইব করতে হয়। আমাকে অনেকে জিজ্ঞেসও করতেন কী ভাবে সিরিজ়টি বাংলা ভাষায় দেখতে পাবেন। বেশিরভাগ মানুষ হিন্দি ডাব দেখেছে।’
পাওলি দামের স্বামী অর্জুন দেব একজন ব্যবসায়ী। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্বামীর ওপর নির্ভরশীল নন বলে জানান। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি বহু বছর ধরে গুণগতমান সম্পন্ন কাজ করেছি। এখনও তা-ই করছি। আর আমি আমার আর্থিক সঞ্চয়ের দিক ভালোভাবে সামলে নিতে পারি। আমি একেবারেই আমার স্বামী অর্জুনের ওপর নির্ভরশীল নই। অন্য দিকে যেমন-তেমন করে ছবিও করতে হয় না।’
বাস্তবজীবনে অনেকটা মিতব্যয়ী অভিনেত্রী পাওলি দামন। তেমন কোনো বিলাসিতার ছোঁয়া নেই তার জীবনে। হাতখরচ বাঁচাতে একসময় ট্রামেও চড়তেন বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে পাওলি বলেন, আমি প্রয়োজন না হলে ফোনও খুব একটা বদলাই না। ছয় মাস অন্তর নতুন দামি ফোন বা আইপ্যাড চাই না আমার। বড় গাড়ি, বড় জায়গা, বড় বাড়ির চাহিদা নেই আমার। আমি সুতির শাড়ি পরতে ভালবাসি। জিনিসের মূল্য বড় কথা নয় আমার কাছে। আমি জিনিসপত্র সহজে ফেলেও দিতে পারি না। দেড় বছর আগে শিকাগোয় যে পানির বোতল কিনেছিলাম, সেই বোতল সঙ্গে করে এনেছি, এখনো ব্যবহার করি বাড়িতে। মুম্বাইয়ে গেলে অটোরিকশায় চড়ি। আমি তো চাইলেই আমার গাড়িটা নিয়ে যেতে পারি। স্কুল, কলেজে হাতখরচ বাঁচানোর জন্য ট্রামে চড়ে যাতায়াত করতাম।
‘কাবেরী’তে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কলকাতার এ অভিনেত্রী। এ সিরিজে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘কাবেরী’ চরিত্রটি আত্মস্থ করতে আমার খুব অসুবিধা হয়েছিল। আমি কোনো দিন লিঙ্গবৈষম্যের মধ্যে বড় হইনি। বাড়ি তো বাদই দিলাম, আমার আশেপাশেও কাউকে দেখিনি। গৃহিণী দেখেছি। আমার মা-ও গৃহিণী, কিন্তু স্পষ্ট মতামত রাখেন সব সময়। বাড়িতেও কোনো ধরনের বৈষম্য জায়গাই পাবে না!
কাবেরীর সঙ্গে বাস্তবের মিল রয়েছে কিনা এ প্রসঙ্গে পাওলি দাম বলেন, এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলি। আমি আগে ভাবতাম শিক্ষিত হলেই এই সব থেকে বেরিয়ে আসা সহজ। কিন্তু আসলে তা হয় না। ‘কাবেরী দত্ত’ অঙ্কের শিক্ষিকা, কিন্তু বাড়িতে তিনি অবদমিত, অত্যাচারিত। আমি চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পরে ভেবেছিলাম, আমি ‘কাবেরী’ নই। কিন্তু চারিদিকে কত ‘কাবেরী’ রয়েছেন যাঁরা আওয়াজ তুলতে পারেন না।
তিনি বলেন, বাড়ির পরিবেশের ওপর নির্ভর করে সন্তানের মানসিক গঠন কেমন হবে। ছোটবেলা থেকে যদি সন্তান এই ধরনের আচার-আচরণ দেখে বড় হয়, সে-ও একই অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। পারিবারিক কলহ রুখতে কড়া আইন জারি করা প্রয়োজন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। অর্থনৈতিক ভেদাভেদ, সামাজিক ভেদাভেদ, শিক্ষার ভেদাভেদ রয়েছে। সময় লাগুক, কিন্তু উত্তরণ ঘটুক।
নারীদের পোশাক নিয়ে অনেক নারীই কটাক্ষ করেন। এ বিষয়ে ‘কাবেরী’ অভিনেত্রী বলেন, আমার মানসিকতা, সাজপোশাক উনিশ শতকের সঙ্গে মিলবে না। আমি তো আমার পরিবেশ থেকেই শিখব। জন্মের পর মা-বাবার শেখানো বিষয় আত্মস্থ করি। জীবনে চলার পথে বন্ধুবান্ধবের থেকে কিছু শিখি, আর জীবনযাপনের মধ্যে দিয়ে বেশ কিছু দর্শন তৈরি হয়।