প্রশান্ত মহাসাগরীয় ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র সামায়ার রাজধানী আপিয়ায় ছয় দিনব্যাপী কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কমনওয়েলথের সভাপতি যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস ২৫ অক্টোবর এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ছাড়াও ২৫ অক্টোবর তিনি নির্বাহী সেশনে যোগ দেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ২৬ অক্টোবরে সরকার প্রধানদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক স্বৈরাচারী সরকার পরিবর্তনের পটভূমি এবং পরিবর্তন আনয়নে তরুণ প্রজন্মের ত্যাগ ও অবদেন তুলে ধরে টেকসই ভবিষ্যত গড়ার নিমিত্তে কমনওয়েলথের ১.৫ বিলিয়ন তরুণদের অধিকতর সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কমনওয়েলথ নেতাদের এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কমনওয়েলথ নেতাদের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে নেতারা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়ে অলোচনা করার পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রসমূহের নিজেদের মধ্যে অধিকতর যোগাযোগ, বাণিজ্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইয়ুথ ফোরাম, বিজনেস ফোরাম, কমনওয়েলথ মিনিসটেরিয়াল মিটিং অন স্মল আইল্যান্ডস, গেস প্রি-সিএইচওজিএম ফরেন মিনিস্টারস মিটিং-এ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এবং বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি সরকার প্রধানদের সম্মানে ব্রিটেনের রাজার নৈশভোজ ছাড়াও একাধিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে এবার মোট ৩৭টি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয় যার একটি বাংলাদেশ ও সামোয়া যৌথভাবে আয়োজন করে। ‘ক্লাইমেট ভালনারেবিলিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ইয়ুথ শীর্ষক এ সাইড ইভেন্টে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং সামোয়ার মহিলা ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।
সাইড ইভেন্টে নামিবিয়া, জ্যামাইকা ও মালদ্বীপের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং মাল্টার পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও ৬০ জনেরও অধিক প্রতিনিধি যোগদান করেন। এ ইভেন্টে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এছাড়া, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিভিন্ন সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে।
শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পাশাপাশি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্বাগতিক সামোয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করেন।
সামোয়ায় কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন শেষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশে ফেরার পথে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।