যে কারণে দুই মাস বেতন পাননি সাফজয়ী মেয়েরা

হিমালয়ের বুকে আরও একবার ফুটবলের ফুলে ফুটিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা ফুটবল স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার জিতেছে সাফের শিরোপা। কয়েক বছরে বাফুফে যে সাফল্যের বড়াই করে তা শুধু মেয়েদের কারণেই। অথচ এই মেয়েদের ভাগ্যে জুটে না মূল্যায়ন। দুই মাস ধরে বকেয়া রয়েছে প্রাপ্য বেতনও।

নারী ফুটবলারদের বেতন না পাওয়া নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম। তিনি বলেন, 'সাফ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।'

শফিকুল আলম আরও বলেন, 'দেশের বেশ কয়েকটি পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মেয়েরা (নারী ফুটবলার দলের সদস্য) দুই মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এই সমস্যাটি আসলে সালাউদ্দিনের আমলের সমস্যা। তিনি যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমরা খুব দ্রুতই এটার সমাধান করার চেষ্টা করছি। আশা করছি দ্রুত এ ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া হবে।'

আগের চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ ১৫ ফুটবলার মাসে পেয়েছেন ৫০ হাজার টাকা করে। ১০ জন পেতেন ৩০ হাজার টাকা, চারজন ২০ হাজার ও দুইজনের বেতন ছিল ১৮ হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে ৩১ ফুটবলারের জন্য বেতনের অঙ্ক ছিল মাসে ১১ লাখ টাকার কিছু বেশি।

তবে চলতি বছরের মে মাস থেকে সেটা বেড়েছে। মেয়েদের বেতন বাড়ানোর পর পরই ফিফার দ্বারস্থ হয়েছিল বাফুফে। তারা ফিফার আর্থিক বরাদ্দ থেকে মেয়েদের বেতন দেওয়ার অনুমতি চায় ফিফার কাছে। বেশ কবার চিঠি চালাচালির পর ফিফা বাফুফের অনুরোধে সম্মতি দেয়। তবে ফিফার অর্থ ছাড় করা বড় জটিলতার। সময় সাপেক্ষও। তাই কখনও কখনও প্রতি মাসে বাফুফে পারে না ফিফার বরাদ্দ ছাড় করাতে।

এছাড়া ফিফা-এএফসির বরাদ্দ ছাড়া স্পন্সরদের কাছ থেকে সেভাবে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতাও যোগাতে পারেনি সালাউদ্দিনরা। বৈদেশিক সহায়তা বিলম্বে আসলেই মেয়েদের বেতন নিয়ে জটিলতায় পড়ে যায় বাফুফে। যে কারণে বেতন বাড়লেও সাবিনারা তা পান অনিয়মিতভাবে। এমন সাফল্যের পর বাফুফের নতুন নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ মেয়েদের বেতন নিয়মিত করা।