এতদিন ছাদখোলা বাসে খেলোয়াড়দের বরণ করার দৃশ্য দেখা গেলেও এবার দেখা মিলেছে ভিন্ন চিত্র। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মো. ফজলুল হক (৬০) নামে এক সহকারী শিক্ষককে ফুল সজ্জিত সানরুফ গাড়িতে করে রাজকীয় বিদায় দিয়েছে মাদ্রাসার বর্তমান-সাবেক শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পিতাম্বরপাড়া হোসাইনিয়া বহুমুখী কামিল মাদ্রাসা এবং টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অডিটোরিয়াম কক্ষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শোআইবের সভাপতিত্বে ও সাবেক শিক্ষার্থী এস এম ইমরানের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট ডা. আওরঙ্গজেব বেলাল।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন সহকারী শিক্ষক মো. ফজলুল হককে সংবর্ধনা ও ফুলের মালা গলায় পড়িয়ে সানরুফ গাড়িতে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ সময় মাদ্রসা থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই শিক্ষকের বাড়িতে পায়ে হেঁটে শতশত শিক্ষার্থী শিক্ষকের গাড়ির পিছুপিছু যায়। আপ্লুত শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষের বিদায়বেলায় কান্নায় ভেঙে পড়ে।
মাদ্রসা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালের ২২ মার্চ ফজলুল হক সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ৪১ বছর ৭ মাস ৭ দিন কর্মরত থাকার পর আজ (২ নভেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিক অবসরে যান। ১৯৬৪ সালের ৩ নভেম্বর উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের জাটিয়া চরপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত মিয়া হোসেনের ছেলে। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী টিপু সুলতান ও এস এম ইমরান বলেন, স্কুল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সিনিয়র শিক্ষক মো. ফজলুল হক হুজুর কর্মজীবনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন। যে কারণে বিদায় বেলায় সকল শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। ঈশ্বরগঞ্জে এই প্রথম কোনো বিদায়ী শিক্ষককে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তার এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
বিদায়বেলা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, আজ আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে আমার সকল ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক আমাকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জে এর-আগে আর কোনো শিক্ষক এভাবে সংবর্ধিত হয়নি। তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা কখনও শোধ করা সম্ভব নয়। আমি সবসময় চেয়েছি শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। আজ তারা আমাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজিত সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শোআইব বলেন, শিক্ষক যখন তার চাকরিজীবন শেষে বাড়ি ফিরে যান তখন তিনি অনেক কষ্ট পান। সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের রেখে চলে যাওয়া খুব কষ্টের। বিদায়ের কষ্ট কিছুটা কমানোর জন্যই শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষ ব্যতিক্রমী এমন আয়োজন করেছে। আমার ধারণা ঈশ্বরগঞ্জে এই প্রথম এমন একটি উৎসবের বিদায় হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষকের বিদায় এমন হওয়া উচিত।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট ডা. আওরঙ্গজেব বেলাল বলেন, প্রতিষ্ঠানের সূচনালগ্ন থেকে সহকারী শিক্ষক ফজলুল হক অত্যন্ত আন্তরিক ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি।