সালাউদ্দিন এখনও বাফুফের সভাপতি!

এক সপ্তাহ হয়ে গেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনের। দুর্বল প্রতিপক্ষকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তাবিথ আউয়াল। ফুটবল দুনিয়ায় এই খবর চাউর হয়ে গেছে। ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা ফিফা ও এশিয়ান নিয়ন্তা সংস্থা এএফসি এর মধ্যেই তাদের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবে লিখেছে তাবিথের নাম।

অথচ বাফুফের ওয়েবসাইটে এখনও রয়ে গেছেন আগের চার মেয়াদের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন! ওয়েবসাইটের প্রেসিডেন্ট'স কর্নারে গেলে এখনও জীবনবৃত্তান্ত পাওয়া যাচ্ছে সালাউদ্দিনের। বাফুফের সচিবালয় নতুন নির্বাহী কমিটির ছবি, পদবীসহ নাম পরিবর্তন করলেও গেল এক সপ্তাহে সভাপতির পরিচিতি পরিবর্তন করেনি।

২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাফুফের নির্বাচনে এক সাবেক সেনা অফিসারকে হারিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন সালাউদ্দিন। এরপর টানা চার মেয়াদে পদ দখলে রাখেন তিনি। যদিও সভাপতি পদে থাকতে প্রায় প্রতি নির্বাচনেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শক্তি নানা উপায়ে ব্যবহার করেন শেখ হাসিনার কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত সালাউদ্দিন।

পঞ্চম মেয়াদেও সভাপতি পদে নির্বাচন করার ইচ্ছে ছিল তার। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতন ঘটলে বিপাকে পড়ে যান তিনি। তারপরও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন বেশ কিছুদিন। তবে অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে নিজে থেকেই নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই চিত্রপটে চলে আসেন তাবিথ আউয়াল এবং ২৬ অক্টোবর নির্বাচনে সভাপতিও নির্বাচিত হন।

সালাউদ্দিনের বিদায়টা মোটেই ভালো হয়নি। সাবেক এই তারকা ফুটবল প্রশাসক হিসেবে হয়েছেন চরম ব্যর্থ। তার হারে ফুটবল হয়ে পড়ে ভীষণ অনিরাপদ। বিগত ১৬ বছর ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দু'শর কাছাকাছি ঘুরাঘুরি করেছে। নিয়মিত হলেও ঘরোয়া লিগ পায়নি কোনো শক্ত ভিত্তি। আর জেলার ফুটবল তো চলে গেছে কোমায়।

ফুটবলের বেহাল দশার মাঝে অবশ্য সালাউদ্দিন ও তার দোসররা বাফুফেতে কায়েম করেছিলেন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির রাজত্ব। যার পরিণতিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাম মুর্শেদীকে গুণতে হয়েছে ফিফার জরিমানা। কুর্কমের অন্যতম হোতা সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে ফিফা দুই প্রস্তে তিন বছর ও বাফুফে আজীবন নিষিদ্ধ করে।

এর বাইরে বেশ ক'জন কর্মকর্তার হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ও জরিমানা। সভাপতি হিসেবে এ সব কিছুর দায় আছে সালাউদ্দিনের। তবে ফিফা রহস্যময় কারণে এখনও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ২৬ আগস্ট নির্বাচনে সালাউদ্দিন না থাকলেও কুকর্মের দোসর বেশ কজন টিকে গেছেন।

 

বাফুফে সচিবালয়ও যে সালাউদ্দিনের ছায়া থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি, সেটা তো ওয়েবসাইটের প্রেসিডেন্ট'স কর্নারে তাকে সযত্নে রেখে দেওয়ার মধ্যেই প্রমাণিত।