ঘরের মাঠে ২৪ বছর পর টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে ভারত। সেই ২০০০ সালে প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ঘরের মাঠে তারা এই লজ্জা পেয়েছিল। তবে সেটা ছিল দুই ম্যাচের সিরিজ। এবার নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রথমবার তিন ম্যাচ সিরিজে তারা হোয়াইটওয়াশড হয়েছে। ঘরের মাঠে টম ল্যাথামদের কাছে এই পরাজয়ে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু লজ্জার রেকর্ড।
দেশের মাটিতে এ নিয়ে চতুর্থবার টানা তিনটি টেস্ট ম্যাচ হারল ভারত। একইসঙ্গে ২০০ রানের কম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হারল চতুর্থবারের মতো। ভারতের মাটিতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো দল দেড়শর কম টার্গেট দিয়ে টেস্ট জিতেছে। এর আগে ২০০৪ সালে খোদ ভারতই অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১০৭ রানের টার্গেট দিয়ে টেস্ট জিতেছিল। এবার নিউজিল্যান্ড জিতল ১৪৭ রানের টার্গেট দিয়ে।
আরও একটি দারুণ কাকতালীয় ব্যাপার আছে। ২০০৪ সালে মুম্বাই টেস্টের আগেই সিরিজ জিতে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এবারও মুম্বাই টেস্টের আগেই নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলে। ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়ে গৌতম গম্ভীরের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। সেই গম্ভীর এখন ভারতের প্রধান কোচ। এই সিরিজের আগে ঘরের মাঠে টানা ১৮ টেস্ট জিতেছিল ভারত। অন্য কোনো দল ১০টির বেশি পারেনি।
টেস্টে ভারত এ নিয়ে ১২ বার হোয়াইটওয়াশড হলো। ১০ বার বিদেশে, ২ বার দেশে। ব্যক্তিগত রেকর্ডেও বিব্রতকর অভিজ্ঞতা হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের। ক্যারিয়ারে প্রথমবার এক টেস্টে দুই ইনিংসেই এক অঙ্কের ঘরে আউট হয়েছেন বিরাট কোহলি। মুম্বাই টেস্টের দুই ইনিংসে তার রান যথাক্রমে ৪ এবং ১। আর আকাশ দীপ তো ইতিহাসই গড়ে ফেলেছেন!
টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৭ বছরের ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একই টেস্টে ‘ডায়মন্ড ডাক’ (০ বলে ০) ও ‘গোল্ডেন ডাক’ (১ বলে ০) মেরেছেন ভারতের এই ডানহাতি পেসার। মুম্বাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে কোনো বল না খেলেই তিনি রান-আউট হয়ে যান। পরের ইনিংসে প্রথম বলেই তার স্টাম্প ছত্রখান করে দেন গ্লেন ফিলিপস।