ট্রাম্প বা বাইডেনের মতো নন, তাই জিততে পারেন কমলা

রাত পোহালেই শুরু হবে বিশ্বের শক্তিশালী গণতন্ত্রের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান দলীয় ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের যাওয়ার দৌড়ে দু’জনেই আত্মবিশ্বাসী।

ট্রাম্প জিতলে ১৩০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো পরাজিত প্রেসিডেন্ট পুনঃনির্বাচিত হতে পারেন। অপরদিকে হ্যারিস জিতলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমেরিকানরা পাবেন কোনো নারী প্রেসিডেন্ট। বিভিন্ন জরিপে তাদের দু’জনেরই ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বা কমলা হ্যারিসের মধ্যে যেকোনো একজন যদি দুই বা তিন পয়েন্ট এগিয়ে থাকতে পারেন, তা সহজেই জয়ের জন্য যথেষ্ট। এক্ষেত্রে হ্যারিসের জয়ের পেছনে ৫ কারণ মূল ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্রাম্প নন

ট্রাম্পের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি গভীর মেরুকরণকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে রয়ে গেছেন। ২০২০ সালে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়েও পরাজিত হয়েছিলেন। কারণ আরও ৭০ লাখ আমেরিকান বাইডেনকে সমর্থন করেছিলেন। এবার হ্যারিস ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তিনি তাকে ‘ফ্যাসিবাদী’ ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছেন। অপরদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা ‘নাটকীয়তা ও সংঘাত’ থেকে সরে আসার অঙ্গীকার করেছেন।

জুলাইয়ে রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ৫ জন মার্কিনির মধ্যে ৪ জন মনে করেন দেশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কমলা হ্যারিস আশা করছেন, ভোটাররা বিশেষ করে মধ্যপন্থী রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্ররা তাকে স্থিতিশীল প্রার্থী হিসেবে দেখবেন।

বাইডেনও নন

বাইডেন দৌড় থেকে ছিটকে পড়ার পর ডেমোক্র্যাটরা প্রায় নিশ্চিত পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ট্রাম্পকে পরাজিত করতে হ্যারিসকে ঘিরে দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হয় দলটি। রিপাবলিকানরা বাইডেনের অজনপ্রিয় নীতির সঙ্গে কমলার নাম জুড়ে দিয়ে সমালোচনার তৈরি করে। তবে তাদের সেই আক্রমণকে নিছক অপ্রয়োজনীয় হিসেবে তুলে ধরেছেন কমলা।

বাইডেনের ছিটকে পড়ার অন্যতম একটি কারণ তার বয়স। জরিপগুলো ইঙ্গিত গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মতো দায়িত্ব সামলানো নিয়ে বাইডেনের ব্যাপারে ভোটারদের উদ্বেগ ছিল। তবে কমলা প্রার্থী হওয়ার পর পাশার দান উল্টে গেছে। এখন উল্টো ট্রাম্পের বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্পই হোয়াইট হাউস যাওয়ার লড়াইয়ে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারী অধিকারের পক্ষে

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রো ভি ওয়েড এবং গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিলের পর এটিই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। গর্ভপাতের অধিকার রক্ষার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ভোটাররা নিরঙ্কুশভাবে হ্যারিসকে সমর্থন করেছেন। বিগত নির্বাচনেও এর প্রভাব লক্ষ করা গেছে। এক্ষেত্রে ২০২২ সালের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলা যেতে পারে। সেই নির্বাচনে গর্ভপাতের বিষয়টি বড় হয়ে উঠেছিল এবং নির্বাচনের ফলাফলে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব লক্ষ করা গেছে। প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নারীদের পক্ষে কমলার শক্তিশালী অবস্থান ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যবধানকে শক্তিশালী করতে পারে।

ভোটারদের উপস্থিতি বেশি

জনমত জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে কমলা হ্যারিসের জনপ্রিয়তা বেশি। এবারের নির্বাচনে তাদের ভোট দেওয়ার প্রবণতাও বেশি। নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনার জরিপে দেখা গেছে, গত নির্বাচনে যারা ভোট দেননি তাদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। এবার তারা হাজির হবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রচুর নির্বাচনী ব্যয়

এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, আমেরিকার নির্বাচন ব্যয়বহুল এবং ২০২৪ সাল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল হওয়ার পথে রয়েছে। কিন্তু যখন খরচ করার কথা উঠে আসে - হ্যারিস তখন শীর্ষে থাকে। ফিনান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুসারে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন। কিন্তু গত জুলাইয়ে প্রার্থী হওয়ার পর তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন কমলা। তারপরও তহবিল সংগ্রহে ট্রাম্পকে পেছনে ফেলেছেন কমলা। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায়ও ট্রাম্পের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যয় করেছেন হ্যারিস।