হত্যাচেষ্টা মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘গান বাংলার’ চেয়ারম্যান কৌশিক হোসেন তাপসকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠিয়ে বুধবার রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ঠিক করেন।
এর আগে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা একটি মামলায় গত রবিবার রাতে রাজধানীর প্রগতি সরণি থেকে তাপসকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রওনক জাহান বলেন, কৌশিক হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
হত্যাচেষ্টার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মহিববুল্লাহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাপসকে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বুধবার রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন বাদী ইশতিয়াক মাহমুদসহ অন্যরা। উত্তরা পূর্ব থানার ৪ নম্বর সেক্টরের আজমপুর নওয়াব হাবিবুল্লাহ হাই স্কুলের সামনে তাদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণ করে। সেদিন বাদীর পেটে গুলি লাগে। গত ২৯ অক্টোবর ইশতিয়াক মাহমুদ পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ১২৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করেন। তাপস এ মামলার আসামি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট ‘সরকার ঘনিষ্ঠ’ তকমা দিয়ে ঢাকার প্রগতি সরণির ‘গান বাংলা’র কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, হামলায় ১০ তলা ভবনের বেশিরভাগ ফ্লোরে চ্যানেলটির স্টুডিও সেটআপ, শুটিং ফ্লোর, সাউন্ড সিস্টেম, এডিটিং প্যানেল, সম্প্রচার যন্ত্র ছিল। সব মিলিয়ে সেদিন কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় চ্যানেলটি। সেদিন তাপস ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘জীবনযুদ্ধে আমি এক লড়াকু সৈনিক। আমার মৃত্যু হয় রোজ। তবুও জন্ম নিই দৈনিক। আমি তাপস।’