ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি—যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল। ১৮৫৩ সালের পর থেকে হোয়াইট হাউজে থাকা সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই দুই দল থেকে এসেছেন। এবারের নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সূচনালগ্নে এই দুই দলের একটিরও অস্তিত্ব ছিল না।
নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ‘হাতি’ ও ‘গাধা’ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি। কীভাবে এর শুরু, এ প্রশ্নের জবাব পেতে বেশ পেছনে যেতে হবে।
১৮২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চার প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাদের চারজনই ছিলেন ডেমোক্রেটিক-রিপাবলিকান দলের সদস্য। সেখানে একজন প্রার্থী ছিলেন অ্যান্ড্রু জ্যাকসন। ‘ডামি ক্যান্ডিডেট’ হিসেবে প্রার্থিতা দেওয়া হলেও সাবেক এই মিলিটারি জেনারেল প্রায় ৪২ শতাংশ ভোট পান। তবে কেউ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দ্বিতীয় ধাপে যায় নির্বাচন। পরে বাকি প্রার্থীদের কূটকৌশল তাকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করে।
বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি জ্যাকসন ও তার সমর্থকরা। তারা ডেমোক্রেটিক পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দল খোলে এবং সে সময়ের মার্কিন রাজনীতির ভিত্তি ও ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক-রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতিবিদদের মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করেন।
এ সময় ক্ষমতাসীন দল ও তাদের গণমাধ্যম জ্যাকসনকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা শুরু করে। কিছু পত্রিকা তাকে ‘জ্যাকঅ্যাস’ বলে সম্বোধন করে। এমনকি রাজনৈতিক কার্টুনে গাধার ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে জ্যাকসন ও তার অনুসারীদের ইঙ্গিত করতে শুরু করে পত্রিকাগুলো।
জ্যাকসন সেই ‘অ্যাস’ বা গাধাকেই বানান তার দলের প্রতীক। এই প্রতীক নিয়েই ১৮২৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে হারান জ্যাকসন, যা ছিল ডেমোক্রেটিক পার্টির পথচলার শুরু।
ডেমোক্রেটিক পার্টির উত্থানের ফলে বিলুপ্ত হয়ে যায় ডেমোক্রেটিক-রিপাবলিকান পার্টি। ‘হুইগ পার্টি’ নামে আরেকটি দল জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বিরোধিতা করা এই দলের সদস্য ছিলেন আব্রাহাম লিংকন। পরে লিংকন এবং দাসপ্রথাবিরোধী হুইগরা মিলে গড়ে তোলেন নতুন রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টি।
একই সময়ে হারপার্স উইকলি ম্যাগাজিন আত্মপ্রকাশ করে। যেখানে রাজনৈতিক কার্টুনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান টমাস ন্যাস্ট নামে এক কার্টুনিস্ট। সিএনএনের মতে, তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বিখ্যাত রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট। তাকে মার্কিন কার্টুনের জনকও বলা হয়।
রাজনৈতিক-সামাজিক বিদ্রুপের স্বার্থে ন্যাস্ট তার কার্টুনে প্রচুর পশু-পাখি ব্যবহার করতেন। ষাটের দশকে লিংকনের ক্ষমতালাভ এবং গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে দাসপ্রথা বিলুপ্তির পর রিপাবলিকান পার্টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের ভোটার সংখ্যাও বেড়ে যায়।
১৯৭৪ সালে মার্কিন রাজনীতিতে চলা অস্থিরতা ফুটিয়ে তুলতে একটি কার্টুন আঁকেন ন্যাস্ট। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একটি সার্কাস হিসেবে দেখান তিনি। এই কার্টুনেই প্রথমবারের মতো রিপাবলিকান পার্টিকে একটি বিশাল হাতির রূপে দেখানো হয়, যার গায়ে লেখা রিপাবলিকান ভোট।
ন্যাস্টের কার্টুনে হাতির ব্যবহার একসময় গ্রহণ করে নেয় রিপাবলিকান পার্টিও। কার্টুনের মাধ্যমে ১৮৬৪ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে ছয়টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করেছিলেন ন্যাস্ট। তাকে একসময় ‘প্রেসিডেন্ট মেকার’ খেতাবও দেওয়া হয়েছিল।