সাহাবি আরবি শব্দ। এর অর্থ সঙ্গী, সাথি ইত্যাদি। যারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ইমান অবস্থায় সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ইমান অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন, তাদের সাহাবি বলে সম্বোধন করা হয়। হজরত মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর মনোনীত নবী ও রাসুল। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির কাছে দূত হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। নবুয়তপ্রাপ্তি থেকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তার এই কাজে প্রধান সহযোগী হিসেবে ছিলেন সাহাবিরা। রাসুল (সা.)-এর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে সাহাবায়ে কেরাম বিশ্বব্যাপী দ্বীন প্রচারের জন্য ছড়িয়ে পড়েন। এই মহান ত্যাগ ও কোরবানি করায় আল্লাহতায়ালা তাদের বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। তারা হয়েছেন নবী (সা.)-এর পর সর্বোচ্চ সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহর সঙ্গে তৈরি হয়েছে তাদের নিবিড় সম্পর্ক। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে তাদের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।’ (সুরা তওবা ১০০)
সাহাবিরা ধন্য হয়েছেন রাসুল (সা.)-এর সান্নিধ্য পেয়ে। রাসুল (সা.)-এর সান্নিধ্য, দ্বীনের জন্য কোরবানি, এসব কিছু তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে সমাসীন করেছে। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা ইমান এনেছে, হিজরত করেছে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে, আর যারা তাদের আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য-সহযোগিতা করেছে, তারাই প্রকৃত ইমানদার। তাদের জন্য আছে ক্ষমা আর সম্মানজনক জীবিকা।’ (সুরা আনফাল ৭৪)
পরকালেও তারা সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হবে। সেদিন আল্লাহতায়ালা তাদের সম্মানিত করবেন। তাদের আলো তাদের সামনে ও তাদের ডান পাশে ধাবিত হবে। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এ আলোকে পরিপূর্ণ করে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।’ (সুরা তাহরিম ৮)
আকাশের নক্ষত্র যেমন নাবিকের জন্য পথপ্রদর্শক তেমনি রাসুল (সা.)-এর সাহাবিরাও উম্মতের জন্য পথপ্রদর্শক। রাসুল (সা.)-এর সব সাহাবি পরবর্তী উম্মতের জন্য আদর্শ। তাদের পথই সঠিক পথ। ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, আমার পরে অচিরেই তোমরা মারাত্মক মতভেদ লক্ষ করবে। তখন তোমরা আমার সুন্নত ও হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নত অবশ্যই অবলম্বন করবে, তা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ)