২৩ বছর আগে রাজধানীর মালিবাগ মোড় এলাকায় বিএনপির মিছিলে চারজনকে গুলি করে হত্যার মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এইচ বি এম ইকবাল, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনসহ ১৫ জনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে অব্যাহতি দিয়ে অধস্তন আদালতের আদেশ স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত।
একইসঙ্গে এ দুজনসহ ১৫ জনকে ঢাকার সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ মামলার বাদী খিলগাঁও থানা বিএনপি নেতা ইউনুস মৃধার আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ বুধবার বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি সগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম।
২০০১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ডাকা হরতালের বিপক্ষে ডা. ইকবালের নেতৃত্বে একটি মিছিল এবং হরতালের পক্ষে বিএনপির একটি মিছিল মালিবাগ মোড়ে মুখোমুখি হলে আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে গুলি করা হলে বিএনপির চার কর্মী নিহত হন। নিহতরা হলেন- জসিমউদ্দিন, খোকন, আব্দুর রশিদ মোল্লা ও নাজমা আক্তার।
ঘটনার পরদিন পত্রিকাগুলোতে বিএনপির মিছিলে গুলি করার ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় মামলার পর ২০০২ সালের ২৯ ডিসেম্বর এইচ বি এম ইকবাল- শাওনসহ ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মামলা থেকে ইকবাল- শাওনসহ কয়েকজন নাম প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল- ১ এর আদালত ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট ও ২৯ সেপ্টেম্বর ১৫ জন আসামিকে অব্যাহতি দেন।
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তখন আসামিদের অব্যাহতির এই আদেশ বাতিল চাওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ ছিল না। গত ৫ আগস্টের পর দেশে আইনের শাসন কায়েম হয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২৭ অক্টোবর বিচারিক আদালতের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়।’
তিনি বলেন, হাইকোর্ট দুই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে ১৫ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের গ্রেপ্তারের কথা বলা হয়েছে আদেশে। এ আদেশের ফলে মামলাটিতে এখন আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার চলতে বাধা নেই।