৭৮ বছরে ভাঙলেন ১৩২ বছরের রেকর্ড

ইতিহাস গড়েই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্পই হতে যাচ্ছেন দেশটির সবচেয়ে বেশি বয়সে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। তার বয়স এখন ৭৮ বছর। এর আগে জো বাইডেন ৭৭ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। শুধু তা-ই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত। এ ছাড়া তৃতীয় দফায় ভোটের লড়াইয়ে নেমে জয়ী হয়ে ভেঙেছেন ১৩২ বছর আগের এক রেকর্ড। এবার অবশ্য ইতিহাস গড়ার হাতছানি ছিল ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সামনেও। তিনি জয়ী হলে হতেন দেশটির ইতিহাসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। তবে গতকাল বুধবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফল আসার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যায় তার সেই সম্ভাবনা। কারণ উইসকনসিনে জয় পেয়ে ট্রাম্পের ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ভোটের ম্যাজিক নম্বর। 

এদিকে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট পদে জয় পাওয়ার পর ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমেরিকার জনগণের জন্য এটি চমৎকার জয়। এটা আমাদের আমেরিকাকে আবারও মহান করার সুযোগ দেবে। এটি আমেরিকার স্বর্ণযুগ হবে।’

এদিকে চার বছর আগে হোয়াইট হাউজ ছাড়ার পর ট্রাম্পের এই ফিরে আসা যুক্তরাষ্ট্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে ট্রাম্পের এ বিজয়। বিশ্লেষকদের এই বক্তব্যের আভাস মিলেছে ট্রাম্পকে জানানো বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়ায়ও। তারা ট্রাম্পকে বন্ধু আখ্যা দিয়ে এবারও তার সঙ্গে কাজের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এবারের ভোটে শুধু প্রেসিডেন্ট পদেই জয়ী হয়ে থামেনি রিপাবলিকান পার্টি। সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও গভর্নর পদের ভোটেও ট্রাম্পের দলের জয়জয়কার এবার। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া ফলে দেখা গেছে, ৫৩৮ ইলেকটোরাল কলেজের মধ্যে ট্রাম্প জিতেছেন ২৭৭টি; যা ইতিমধ্যে জয়ের ম্যাজিক নম্বর ২৭০ পেরিয়ে গেছে। আর আর কমলা জিতেছেন ২২৪টি। ফলাফল আসেনি ৫ অঙ্গরাজ্যের, যার একটিতে এগিয়ে কমলা, বাকি চারটিতেই জয়ের পথে ট্রাম্প। এই ধারা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা হবে ৩১২টি আর কমলার হবে ২২৬টি।

ইলেকটোরাল কলেজের মতো এবার জনপ্রিয় ভোটও বেশি পেয়েছেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার যখন প্রেসিডেন্ট হন, তখন জনপ্রিয় ভোটে তিনি হিলারি ক্লিনটনের কাছে হারলেও ইলেকটোরাল কলেজে জয়ী হয়ে হোয়াইট হাউজের বাসিন্দা হয়েছিলেন। তবে এবার তিনি ৫১ শতাংশ জনপ্রিয় ভোট পেয়েছেন, যার সংখ্যা ৭ কোটি ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫৯৭। আর কমলা পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ বা ৬ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার ৫১৩ ভোট।

ট্রাম্পের দল এবারের ভোটে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৫২টি পেয়ে ইতিমধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে রিপাবলিকানরা। আর ডেমোক্র্যাটদের আসন ৪২টি। বাকি ছয়টির ফল এখনো পাওয়া যায়নি। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেরও জয়জয়কার ট্রাম্পের দলের। সেখানকার ৪৩৫ আসনের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির আসন ২০৪টি আর ডেমোক্রেটিক পার্টির ১৮২টি। এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য দরকার ২১৮ আসন।

গত মঙ্গলবার ১১টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে আটটিতে জিতেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী আর ডেমোক্রেটিক পার্টি জিতেছে মাত্র তিনটিতে। এখন অবস্থা এমন, ৫০টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরদের মধ্যে ২৭টি রিপাবলিকান দলের আর ২৩টি ডেমোক্র্যাটদের।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটে ট্রাম্প যে এবার ওভার ট্রাম্পড করবেন, সেই আত্মবিশ^াস তার আগে থেকেই ছিল। ফ্লোরিডায় ভোট দিয়েই তিনি বলেছিলেন, সব জায়গায় রিপাবলিকানরা খুবই ভালো করছে। তিনি জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

রোনাল্ড রিগ্যানের পর প্রথম রিপাবলিকান হয়ে ২০১৬ সালের নির্বাচনে উইসকনসিনে জিতেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ২০২০ সালে বাইডেনের কাছে হারিয়েছিলেন রাজ্যটি। দোদুল্যমান রাজ্য উইসকনসিনে কমলা ও ট্রাম্প দুজনেই অনেক সময় দিয়েছেন প্রচারণায়। ২০২০ সালের নির্বাচনে এই রাজ্যের ভোট পুনর্গণনার জন্য মামলা করেও হেরেছিলেন। তবে সেখানে আবার জয় পেলেন তিনি। আর সে জয়ই নিশ্চিত করল তার ওভাল অফিসে যাওয়া।

বার্তা সংস্থা এপি বলছে, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৪ মিনিটে ট্রাম্পকে উইসকনসিনে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

এরপরই তিনি ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টি কনভেনশন সেন্টারে সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকা আমাদের একটি দৃঢ় এবং অভূতপূর্ব ম্যান্ডেট দিয়েছে।’ ট্রাম্প বলেন, ‘এটি আমেরিকার মানুষের জন্য একটি অসাধারণ বিজয়, যা আমাদের আবার আমেরিকাকে মহান করতে সাহায্য করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি সীমান্ত বন্ধ করতে যাচ্ছি এবং আমাদের দেশের সবকিছু ঠিক করতে যাচ্ছি।’

এ ছাড়া তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অংশে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ থামানোর এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ট্রাম্প স্ত্রী মেলানিয়াকে ধন্যবাদ দেন এবং তাকে ফার্স্টলেডি বলে ডাকেন। ট্রাম্প মেলানিয়ার লেখা বইয়ের প্রশংসা করেন। বলেন, বইটি ‘আমেরিকার সর্বাধিক বিক্রীত’ বইয়ের একটি। তিনি (মেলানিয়া) দারুণ কাজ করেছেন। তিনি জনগণকে সাহায্য করতে কঠোর পরিশ্রম করেন। নিজের সন্তানদের অভূতপূর্ব বলে উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তিনি প্রত্যেক সন্তানের নাম ধরে ডাকেন। তারা মঞ্চে এসে দাঁড়ান।

এরপর ট্রাম্প তার রানিংমেট জে ডি ভ্যান্সকে শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, তিনি (ভ্যান্স) যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। এরপর জেডি ভ্যান্স সমর্থকদের সামনে বলেন, ‘আমরা আজকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পুনরুত্থান দেখলাম।’

বিবিসি বলছে, ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি তার সমর্থকদের ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালানোর পর মনে করা হয়েছিল, ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবন প্রায় শেষ। তবে তিনি রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করলেন।

রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সমস্যা হিসেবে চাকরি ও অর্থনীতিকে দেখেছেন। দ্রুত মজুরি বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারের রেকর্ড উল্লম্ফন ও কম বেকারত্ব হার সত্ত্বেও অনেক আমেরিকান জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে অসন্তুষ্ট। বাইডেন প্রশাসনকে দোষারোপ করে বেশিরভাগ ভোটার মনে করেন, কমলার চেয়ে এ সমস্যা সমাধানে ট্রাম্পের প্রতি তাদের আস্থা বেশি।

ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থক হিস্পানিক সম্প্রদায় এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোও মুদ্রাস্ফীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার ট্রাম্পের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। গ্রামীণ, শ্বেতাঙ্গ এবং অ-কলেজ শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যেও তার শক্ত ঘাঁটি অটুট ছিল।

বিবিসি বলছে, দুবার অভিশংসিত এবং একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হলেও কম জনসমর্থনের মধ্যেই ট্রাম্প এ বিজয় অর্জন করেছেন। তার এ জয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তননীতি, ইউক্রেন যুদ্ধ, করব্যবস্থা এবং অভিবাসন নীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন মিত্রদের বাণিজ্য সংঘাত বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া করপোরেট কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি এবং নতুন বাজেট কাটছাঁট মার্কিন ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন বন্ধে ট্রাম্প গণ-নির্বাসন পরিচালনার পরিকল্পনা করেছেন। তার প্রতিপক্ষ শিবিরের শঙ্কা, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পদক্ষেপ নেবেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি ফৌজদারি মামলা কাঁধে নিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন এবং ওভাল অফিসে বসবেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা চলমান। ক্যাপিটল হিলের হামলার ঘটনা ছাড়াও নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে তার। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় পর্নোগ্রাফি তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ রাখতে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। নভেম্বরের শেষের দিকে তার মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে ট্রাম্প প্রশাসন পুনর্গঠন ও তার দৃষ্টিতে অননুগত বেসামরিক কর্মচারীদের বরখাস্ত করতে পারেন বলে জানিয়েছেন। তার মেয়াদে জাতি, লিঙ্গ, প্রজনন অধিকার এবং শিশুদের শিক্ষাক্রম নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গতকাল থেকেই এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেছেন বিশ^নেতারা। এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান। ট্রাম্পকে ‘বন্ধু’ উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে পোস্ট করে বলেন, ‘ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ের জন্য আমার বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তরিক অভিনন্দন।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এক্সে লিখেছেন, ‘অভিনন্দন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমরা যেভাবে কাজ করতাম, ঠিক সেভাবে চার বছর একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আরও শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রত্যয়, শ্রদ্ধা, উচ্চাকাক্সক্ষার সঙ্গে কাজ করব।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে এক্সে লিখেছেন, ‘আগামী বছরগুলোয় আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আপনার কাছের বন্ধু হিসেবে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের মুক্তি, গণতন্ত্রের পাশে থাকব।’

হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিরে আসাকে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন উল্লেখ করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘এটা আমেরিকার জন্য একটি নতুন সূচনা এবং ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে মহান জোটের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিশ্রুতি। এটি একটি বিশাল বিজয়!’

ট্রাম্পের সমর্থনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে লিখেছেন, ‘বিশ^ব্যাপী শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করি। এটি ঠিক সেই নীতি, যা ইউক্রেনে শান্তি আনতে পারে।’

ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুট অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের জোটকে শক্তিশালী রাখার জন্য তার নেতৃত্ব আবারও গুরুত্বপূর্ণ হবে। ন্যাটোর মাধ্যমে শক্তির মাধ্যমে শান্তি এগিয়ে নিতে আমি আবারও তার সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।’

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক পোস্টে ট্রাম্পকে ‘সর্বোচ্চ আন্তরিক অভিনন্দন’ জানিয়ে দুদেশের ‘অটুট জোট’ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি একটি কৌশলগত বন্ধন, যা আমি নিশ্চিত যে, আমরা এখন আরও শক্তিশালী করব।’

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ টেলিগ্রামে বলেন, ‘ট্রাম্পের একটি প্রয়োজনীয় গুণ আছে। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে খারাপ দাতব্য প্রকল্পে ও উদাসীন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোয় অর্থ ব্যয় তিনি মারাত্মকভাবে অপছন্দ করেন।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন। আমি বিশ্বাস করি, এই নতুন যুগে একটি সুন্দর বিশ্বের প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।’

এ ছাড়া ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ, অস্ট্রিয়ান চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান, চেক প্রধানমন্ত্রী পেট্র ফিয়ালা, রোমানিয়ার প্রধানমন্ত্রী মার্সেল সিওলাক, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গহর স্টোর, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন, এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন।

জার্মান চ্যান্সেলর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র, আইরিশ প্রধানমন্ত্রীও ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।