বগুড়ায় কলেজছাত্র এম নুরুল্লাহ মণ্ডলকে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে দুই সাংবাদিকসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ১০০ জনকে। এই মামলায় বগুড়ার দুই সাংবাদিককেও আসামি করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দীন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এরআগে, গত ৫ নভেম্বর রাতে বগুড়া সদর থানায় মামলাটি করেন কাহালু সরকারি কলেজের ইসলাম ইতিহাসের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ১৮ জুলাই আহত কেএম নুরুল্লাহ মণ্ডলের বাবা কে এম সাইফুর রহমান। তিনি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নারিচাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
এ মামলায় আসামি হওয়া দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক কালের কণ্ঠের ফটো সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ ঠান্ডা এবং গাজী টিভির বগুড়া প্রতিনিধি ও বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন মিন্টু।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মোহন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা, সাধারণ সম্পাদক আল মাহিদুল ইসলাম জয়, জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাইমুর রহমান তিতাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার রায়, আওয়ামী লীগ নেতা সাগর কুমার রায়, শাহাদৎ আলাম ঝুনু, সুলতান মাহমুদ খান রনি প্রমুখ।
এজাহারে কে এম সাইফুর উল্লেখ করেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের কামারগাড়ি মিছিল নিয়ে পৌঁছালে আসামিরা ককটেল, পিস্তল, কাটা রাইফেল, শটগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে আমারে ছেলের কপাল লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে আমার ছেলে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (শজিমেক) নেওয়া হলে দুই দফা আপারেশন করে গুলি বের করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ন্যায় বিচারের আশায় তিনি সদর থানায় মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, ‘আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’