২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত প্রায় ১১১৪ প্রার্থীর করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। আগামী ৪ ডিসেম্বর এ আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছে আপিল বিভাগ। প্রার্থীদের পৃথক তিনটি রিভিউ আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ওই বছরের ৩০ মে মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিএসসি (সরকারি কর্মকমিশন) একই বছরের ১ জুলাই প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন পরীক্ষার্থীরা। ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। তবে তার আগে ওই বছরের ২৯ জুলাই দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা নেয় পিএসসি। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১০ সালের ১১ জুলাই লিভ টু আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ। এ রায়ে দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষার সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে উল্লেখ করে আপিল বিভাগ। পরে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন প্রার্থীরা। গতকাল এই রিভিউ মঞ্জুর করে আপিল শুনানির দিন ধার্য করে আপিল বিভাগ।
ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দিন দোলন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় চূড়ান্ত সুপারিশের পরেও প্রায় ১২০০ জনকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয়বার ভাইভা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে মামলার পর হাইকোর্টের রায় প্রার্থীদের পক্ষে আসে। কিন্তু তখন আপিল বিভাগ বলেছিল যে, দ্বিতীয়বার ভাইভা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক। আজ (গতকাল) রিভিউ করলাম। আদালতে বলেছি, লিভ টু আপিল মঞ্জুর না করেই আপিল বিভাগ রায় বাতিল করেছিল, এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। সুপারিশপ্রাপ্তরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হলো। আদালত আমাদের আপিল শুনানির জন্য মঞ্জুর করেছেন। আগামী ৪ ডিসেম্বর আপিলের ওপর শুনানি হবে।’