টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডা, আবাসিক হোটেলে নারীকে হত্যা

নগরের বহদ্দারহাট এলাকার আবাসিক হোটেল ‘গুলজার’ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সেই ফরহাদ হোসেন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম  মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় নগরের খুলশী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। 

গত ২০ জুলাই রাতে ওই হোটেলের একটি কক্ষের টয়লেট থেকে বিবি কুলসুম (৩৭) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কুলসুমের বাবা আবদুস ছত্তার বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। 

সিআইডি চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, ‘বিবি কুলসুম স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গুলজার হোটেলে ফরহাদের সঙ্গে গিয়েছিলেন। হোটেল কক্ষে টাকার ‘পরিমাণ’ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে কুলসুমকে গলা টিপে হত্যা করে পালিয়ে যান ফরহাদ।  বুধবার সন্ধ্যায় খুলশি এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর কুলসুম হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ফরহাদ হোসেন।

সিআইডি জানায়, গত ১৯ অক্টোবর  চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট গুলজার  হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ফরহাদ ও বিবি কুলসুম একদিনের জন্য একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরের দিন চেক আউট না করায় দুপুরে  হোটেল কর্মচারী রুমের সামনে গিয়ে দরজা বাইর থেকে হাতল লাগানো অবস্থায়  দেখতে পান। দরজা খুলে বিবি কুলসুমকে টয়লেটের মেঝেতে গলায় ওড়না প্যাঁচানো ও হাত-পা বাঁধা মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি। সিআইডির ক্রাইমসিন টিম ভিকটিম বিবি কুলসুমের পরিচয় শনাক্ত করে। কুলসুম বিবাহিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে।