প্রকৃতির অমোঘ দানে বাবুই পাখির নিপুণ শিল্পকর্ম আমাদের ভাবিয়ে তোলে। এমন কারুকার্যময় শৈল্পিক বাসা বুননে বাবুই পাখির জুড়ি মেলা ভার। তাদের বোনা বাসার শিল্পকর্ম দেখলে মনে হয় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেন পড়াশোনা করে এসেছে শিল্পী বাবুই। প্রকৃতির বিদ্যাই যে কোনো অংশে কম নয় তা যেন বাবুই পাখিদের দেখেই বোঝা যায়। গ্রামবাংলার ভিটেবাড়িতে থাকা তাল, খেজুর, নারিকেল গাছের মতো উঁঁ”ু উঁচু গাছই বাবুই পাখির বাসা তৈরির জন্য প্রধান পছন্দ। নলখাগড়া, কাশ, হোগলা পাতা এবং শ্যামা ঘাসই বাসা তৈরির প্রধান উপকরণ। বাবুই পাখি মূলত উল্টো কলসের মতো বাসা তৈরি করে। তাতে থাকে দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যের ছোঁয়া। এই বাসা এমনভাবে তৈরি যেন তা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে টিকে থাকতে পারে। মানুষের আধুনিক বাসার চেয়েও কোনো অংশে কম নয়, এ প্রাকৃতিক শিল্পী পাখিদের বাসা। ঘরে প্রবেশের জন্য রয়েছে দুটি প্রবেশ পথ। আলো-বাতাস চলাচলের জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভেতরে রয়েছে তার ডিম রাখার জন্য ঝুড়ি। প্রকৃতির ভয়াবহ ঝড় থেকে রক্ষার জন্য শক্তপোক্ত করে তৈরি করে তাদের বাড়ি। বাবুই পাখির বাসা দেখে বড় বড় প্রকৌশলীরা পর্যন্ত অবাক হয়েছেন। বাবুই পাখির কৌশল ব্যবহার করেই জাপানিরা ভূমিকম্পের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার বাড়ির নকশা করে থাকেন। ঝড়ে বাবুই পাখির বাসা যেমন দোল খায় কিন্তু ভেঙে পড়ে না, তেমনি জাপানিরাও এখন সে আদলে তাদের বাড়িঘর তৈরি করেন। সেখানে ঘন ঘন ভূমিকম্পে তাদের বাড়ি এখন আর ভেঙে পড়ে না। বাবুই পাখিরা সংসার পাতার সময় হলেই তারা মনের আনন্দে বোনে তাদের শৈল্পিক বাসা। সে বাসার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে মেয়ে সঙ্গিনী তার সঙ্গে সংসার পাতে। পৃথিবীতে ১১৭ প্রজাতির বাবুই পাখি রয়েছে। তার মধ্যে আমাদের দেশে ৩ প্রজাতির বাবুই পাখির দেখা মেলে। মূলত দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তান ভৌগোলিক এলাকা ছাড়া আর কোথায়ও এদের দেখা যায় না। বছরে ৬ বার বাসা বুনে থাকে বাবুই পাখি। এদের প্রধান খাদ্য হলোÑ গম, শস্য দানা এবং কীটপতঙ্গ। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উঁচু উঁচু তাল, খেজুর এবং নারিকেল গাছ কমে গেছে। তাতেই আবাস সংকটে এ পাখি এখন বিলুপ্তের পথে।