ফারুকীর মজা করে দেওয়া স্ট্যাটাসই সত্য হলো

মজার ছলে দেওয়া স্ট্যাটাসই অবশেষে সত্য হয়েছে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর জীবনে। মাসখানেক আগে ‘আমাকে উপদেষ্টা করা এখন সময়ের দাবি’ ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন এ নির্মাতা। তখন তার ভক্ত-সমর্থকরা ধরেই নিয়েছিল, তিনি উপদেষ্টামণ্ডলীতে ডাক পেয়েছেন। যদিও কিছুক্ষণ পর আরও এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছিলেন, নিছক মজার ছলেই উপদেষ্টা হওয়ার কথা লিখেছিলেন।

তবে ফারুকীর সেই স্ট্যাটাস অবশেষে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন জনপ্রিয় এ চলচ্চিত্র নির্মাতা। রবিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেন তিনি।

এর আগে গত ৩ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছিলেন, ‘আমাকে উপদেষ্টা করা এখন সময়ের দাবি। আওয়ামী প্রোপাগান্ডু লীগ যেভাবে আমার ব্যাপারে তাদের ক্ষোভ জানাচ্ছে তাতে বোঝা যাচ্ছে ফ্যাসিবাদের পতনে আমার বিশাল ভূমিকা আছে। সুতরাং ‘ফ্যাসিবাদের পুচ্ছে আগুন’ কোটায় আমাকে উপদেষ্টা করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

স্ট্যাটাসে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা আরও লিখেন, ওদের বুদ্ধি যদিও খুলবেনা, তবুও একটু বলি। ১. ওহে, আমি কোনো রাজনৈতিক কর্মী না। আমি আওয়ামী লীগ-বিএনপি সবারই ভালো কিছুর প্রশংসা এবং খারাপ কাজের নিন্দা করতে পারি। ২. ফ্যাসিবাদের কালে যেহেতু এই দেশেই থাকতে হইছে, ফলে আমাদের বেঁচে থাকা ছিলো বড় কৌতুকময়। সৌভাগ্য হোক দুর্ভাগ্য হোক, রাডারের নীচে থাকার কারণে নানা কায়দা কানুন করে বেঁচে থাকতে হইতো। সরকারের সমালোচনা করে একটা পোস্ট দিলে তিনটা দিতে হইতো প্রশংসা করে। আবার সমালোচনারও কিছু প্যাটার্ন আছে। প্রধানমন্ত্রীকে বাইরে রেখে অন্যদের সমালোচনা করতে হইতো। তারপর ধরেন, আপনার সিনেমা আটকে যাবে যেটা আটকানোই অন্যায়। সেই সিনেমা ছাড়ানোর জন্য তদবির করবেন। এবং ছাড়ানোর পর ধন্যবাদ দিবেন। নানাবিধ কৌতুকময় ছিলো এই জীবন। সামনে আমার কাজে এইসবের ছাপ দেখবেন অল্প বিস্তর। ৩. ওরাও জানে ওদের লুটপাট, টেন্ডার বানিজ্য, চুরি চামারি, ব্যবসা কোনো কিছুর সাথেই আমাদের কোন সম্পর্ক নাই। কিন্তু আমাদের উপর রাগ আছে। কেনো আমরা ফ্যাসিস্ট পতনের আন্দোলনে নামলাম- এই ক্ষোভ বড় গভীর। এই ক্ষোভ ঢালার জন্য এখন ওদের কষ্ট করে আমার টাইমলাইনের উপর পিএইচডি করতে হচ্ছে। কিন্তু ওদের নিজেদের জন্য ভালো হবে এইসবে সময় ব্যয় না করে, আত্মশুদ্ধির পথে হাঁটা। আর বাংলাদেশের করণীয় হচ্ছে মানবতা বিরোধী অপরাধ আর সীমাহীন লুটপাটের বিচার করা।

প্রসঙ্গত, ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পক্ষে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন ‘টেলিভিশন’, ‘ডুব’–খ্যাত এই নির্মাতা। ফেসবুকে প্রতিদিনের নানা ঘটনা নিয়ে অকপটে নিজের মতো জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরও সমসাময়িক নানা বিষয়ে অন্তর্জালে সরব ছিলেন এই নির্মাতা।

আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ করে খ্যাতি পেয়েছেন। নির্মাণের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও পরিচিত ফারুকী। তার মালিকানাধীন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘ছবিয়াল’–এর ব্যানারে তিনি বহু বিজ্ঞাপন, নাটক ও সিনেমা নির্মাণ করেছেন