দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম চালু থাকায় প্রায় ৬১ ঘণ্টা পর আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১১টা থেকে নাব্যতা সংকটের কারণে এ রুটে ৭২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ফেরি সংস্থা বিআইডব্লিউসিটি।
জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং করায় চ্যানেল ফেরি চলাচলের উপযোগী হওয়ায় আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। এ রুটে চলচলকারী ৫টি ফেরি যানবাহন নিয়ে কাজিরহাট যাত্রা করে। দু’দিন ফেরি বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে বিপুলসংখ্যক ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে।
জানা গেছে, আরিটা পয়েটে যমুনার পানি দ্রুত হারে কমতে থাকায় আরিচা-কাজিরহাট রুটে কাম্য নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হয়। রোলঅন-রোলঅফ ফেরি বোঝাই অবস্থায় চলাচল করতে অনন্ত ১০ ফুট নাব্যতা প্রয়োজন। কিন্তু প্রায় ১ মাস যাবৎ এ রুটের বিভিন্ন স্থানে কাম্য নাব্যতা নেই। বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং ইউনিট যথা সময়ে আরিচা, চরলতিফপুর, কাজিরহাট, কল্যাণপুর, মুন্সিখোলা,ব্যাটারির চর, কৈটোলা, আউয়ালবাট, বাঘাবাড়ি, নাকালিয়া, মোহনগঞ্জ প্রভৃতি স্পর্শকাতর চ্যানেলে ড্রেজিং কার্যক্রম হাতে নেয়। কিন্তু পানি কমতে থাকায় ডুবো চর বিস্তৃতি লাভ করে। এতে ড্রেজিং চালু থাকলেও স্রোতে চ্যানেল ভরাট হওয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহৃত হয়। এ কারণে ১ নভেম্বর রাত ৯টা থেকে প্রায় ৩৮ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে।
ট্রাকচালক আনোয়ার জানান, শুক্রবার রাতে আরিচা ঘাটে এসে ফেরি পার হতে না পেরে সমস্যায় পড়েছি। দু’দিন অপেক্ষার পর রবিবার ফেরি পেলেও সময় ও অর্থ অপচয় হওয়ায় নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
ফেরি সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টর ম্যানেজার আবু আবদুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে জানান, শীত মওসুমে নদীতে পানি কমায় চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। গত বন্যা ও বর্ষায় নদীর চ্যানেল ভরাট হওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং কার্যক্রম চালালে চ্যানেলযোগে ফেরি চলাচল করতে হয়। প্রায় দু’দিন বন্ধ থাকার পর সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।