শূন্য মানে একদমই শূন্য পুঁজি নিয়ে এক যুগ আগে গহনার ব্যবসা শুরু করেছিলেন তাহসিন তামান্না। তাও কোনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নয়, তার ব্যবসাটি ছিল অনলাইন ভিত্তিক জুয়েলারি পেজ।
মাত্র পনেরো বছর বয়সেই শুধুমাত্র গহনার প্রতি ভালোবাসা এবং আগ্রহ থেকে ২০১২ সালে তিনি শুরু করেন অনলাইনে জুয়েলারির ব্যবসা, যেটির নাম ‘টি জেড’স স্টোর। ব্যবসা সম্পর্কে খুব স্বল্প জ্ঞান নিয়ে অনলাইনে শুরু করা সেই ব্যবসা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি করতে শুরু করে এবং মুনাফার মুখ দেখেন। ছয় থেকে ষাট, কন্যা থেকে মা— সব বয়সী নারীর পছন্দ হয়ে উঠে চমৎকার গুণগত সম্পন্ন সেসব জুয়েলারি প্রডাক্ট। আর অল্প সময়েই তামান্না হয়ে উঠেন স্বাবলম্বী।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চমত্কার গুণমান নিশ্চিত করে আসছে তাহসিন তামান্নার ব্র্যান্ডটি এবং বাজারে অপরাজেয় দাম প্রদানের মধ্য দিয়ে ট্রেন্ডে রয়েছে।
শূন্য পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করা সেই তরুণী এখন কটেজের মালিক। সাভারে তার একটি রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়াও এই ব্যবসার মুনাফা দিয়ে রাজধানীতে দুটি রেস্টুরেন্টও দেন। যদিও করোনাকালের পর তা বন্ধ হয়ে যায়।
তাহসিন তামান্না বলেন, ‘আমি যে সময়টাতে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছি সেসময় অনেকেই তা ভাবতেনও না। শুধুমাত্র পেজের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেই আজকে আমি এতদূর। শূন্য পুঁজিতে ব্যবসা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকলেও আমি কিন্তু সেটা করতে পেরেছিলাম। কারণ সেই সময়েই আমি প্রি-অর্ডার নিয়ে প্রডাক্ট বাহির থেকে নিয়ে আসতাম তারপর সেগুলো বিক্রি করতাম। প্রি-অর্ডার থেকে যে অ্যাডভান্স নিতাম সেটা দিয়েই প্রডাক্ট নিয়ে আসতাম। সত্যি বলতে আমার কোনো পুঁজি লাগেনি, আমি শুধুমাত্র ফেসবুক পেজ খুলেছিলাম আর সেটা দিয়েই এতদূর। সততা, নিষ্ঠা থাকলে যেকোনো কিছুই করা সম্ভব।’
তার এই ব্যবসার পরিসর সামনে আরও বাড়ানোর ইচ্ছে রয়েছে বলেও জানান তামান্না।