যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর থেকে রমরমা অবস্থা ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো ৮০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে বিটকয়েনের মূল্য। যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ দাম।
সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রকে “বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী”তে পরিণত করবেন, এরকমই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর ফলশ্রুতিতেই ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর ডিজিটাল মুদ্রা-বান্ধব নীতি গ্রহণ করবেন, এমন প্রত্যাশা থেকেই বিটকয়েনের দামে উর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সিটি আজ মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ৮৯ হাজার ৭৪২ মার্কিন ডলারের নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। নির্বাচনের দিন থেকে ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বিটকয়েনের দাম।
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম এ বছর ৮০% এর বেশি বেড়েছে। ট্রাম্পের সমর্থক টেক জায়ান্ট ইলন মাস্কের “ডোজকয়েন”সহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোও ব্যাপক লাভ করছে।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি একটি কৌশলগত বিটকয়েন মজুত গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি ডিজিটাল সম্পদবান্ধব আর্থিক কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দেবেন। তার এ প্রতিশ্রুতি ক্রিপ্টো শিল্পের ওপর বিধিনিষেধের কমাতে পারে।
এছাড়া প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান কাজগুলোর মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) বর্তমান চেয়ারম্যান গ্যারি গেন্সলারকে বরখাস্ত করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
২০২১ সালে জো বাইডেন গ্যারি গেন্সলারকে নিয়োগ দেন। গেন্সলার ক্রিপ্টো শিল্পের ওপর এসইসির মাধ্যমে কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছেন।
স্টোনএক্স ফিন্যান্সিয়ালের বাজার বিশ্লেষক ম্যাট বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন যদি ক্রিপ্টো শিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে, তাহলে বিটকয়েনের দাম ১ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই পরিবর্তনের ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য ওঠানামা করতে পারে—যা ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে ডিজিটাল মুদ্রা-বান্ধব নীতি গ্রহণের পাশাপাশি ট্রাম্পের নির্বাচনী এজেন্ডায় কর কমানো ও ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি নির্বাচনে জেতার পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। গত কয়েকদিনে প্রধান সব স্টক সূচক, ডলার ও মার্কিন বন্ডের মূল্যও বেড়েছে।