শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ ও হাজিরা বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে গতকাল মঙ্গলবার তিনটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। কারখানা তিনটি হচ্ছে এমএম নিটওয়্যার লিমিটেড, স্বাধীন গার্মেন্টস লিমিটেড ও কাশেম ল্যাম্পস। এ ছাড়া বিভিন্ন দাবিতে আরও ১৪টি পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল গতকাল।
শিল্প পুলিশ ও কারখানার শ্রমিকরা জানান, শ্রমিক আন্দোলনের সময় কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে এমএম নিটওয়্যার লিমিটেডসহ কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই হয়। এর মধ্যে এমএম নিটওয়্যারে দেড়শ শ্রমিক ছাঁটাই হয়। ছাঁটাই শ্রমিকরা পাওনা বুঝে নিয়েছেন। তবে কারখানা ফটকে জড়ো হয়ে তারা চাকরি ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য গতকাল সকাল থেকে ওই কারখানার সব শ্রমিক কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে কারখানার ভেতরে তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এ ছাড়া সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ না করা ও শ্রমিক নির্যাতনের প্রতিবাদে কোনাবাড়ীর জরুন এলাকার স্বাধীন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা গত সোমবার মূল ফটকের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা গতকালও বিক্ষোভ করছেন। স্বাধীন গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যাংকের ঝামেলার কারণে বেতন দিতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। শ্রমিকদের বেতন দ্রুত পরিশোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কোনাবাড়ী বাইমাইল এলাকার কাশেম ল্যাম্পস লিমিটেড নামের একটি কারখানার শ্রমিকরা হাজিরা বোনাস, টিফিন বিল, নাইট বিলসহ ১০ দাবিতে গতকাল কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এসব এলাকার কারখানার নিরাপত্তার জন্য থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, মালেকের বাড়ি এলাকার টিএনজেড অ্যাপারেলস কারখানার সমস্যা সমাধান হওয়ার পর মহাসড়কে আর কোথাও কোনো ঝামেলা নেই। তবে কোনাবাড়ী এলাকার তিনটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। টিএনজেড অ্যাপারেলসসহ গতকাল জেলার ১৪টি কারখানা বিভিন্ন কারণে বন্ধ ছিল।
এদিকে মহানগরীর মোগরখাল এলাকার টিএনজেড অ্যাপারেলস গ্রুপের পাঁচটি কারখানা গতকাল বন্ধ ছিল। সোমবার রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সমঝোতা হওয়ার পরও খোলেনি কারখানাগুলো। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় কারখানা বন্ধ আছে বলে কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ কারণে গতকাল সকালে শ্রমিকরা কারখানায় এলেও পরে ফিরে গেছেন। কারখানার মহাব্যবস্থাপক কবির আহম্মেদ বলেন, কারখানা খোলার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিল বকেয়া থাকার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। কবে খোলা হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নোটিস আকারে শ্রমিকদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মোশাররফ হোসেন বলেন, টিএনজেড অ্যাপারেলস কারখানা বন্ধ আছে। তবে আশপাশের সব কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছেন। সকাল থেকে কোনো ঝামেলার খবর পাওয়া যায়নি।
বকেয়া বেতনের দাবিতে গত শনিবার থেকে টানা তিন দিন প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
নারায়ণগঞ্জে আবারও শ্রমিকদের বিক্ষোভ : বকেয়া বেতনের দাবিতে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলে ক্রোনি গ্রুপের দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। দুপুরে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে কিছু শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এসময় কয়েকশ শ্রমিক সড়ক থেকে সরে গিয়ে আশপাশের বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নেয়।
এর আগে সোমবার বকেয়া বেতনের দাবিতে টানা ৮ ঘণ্টা ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় শ্রমিকরা। এসময় কয়েকটি গার্মেন্টস ভাঙচুর করা হয়।