সুইপের ফাঁদে তাওহীদ হৃদয়

সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে বিপিএলে দ্যুতি ছড়িয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তাওহীদ হৃদয়। প্রথম আসরেই দারুণ পারফরম্যান্সে নির্বাচকদের নজর কাড়েন। জায়গা করে নেন জাতীয় দলে। লাল-সবুজের জার্সিতে মিডল অর্ডারে তার স্থিতিশীলতা ও শট নির্বাচনে দায়িত্বশীলতা মুগ্ধ করেছিল সবাইকে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ক্রমশ তার দুর্বলতাও বেরিয়ে আসছে।

সর্বশেষ আফগানিস্তান সিরিজটা ভালো কাটেনি হৃদয়ের। তিন ম্যাচে করেছেন মাত্র ২৯ রান, সর্বোচ্চ ১১। শেষ ম্যাচে আউট হয়েছেন রশিদ খানের ঘূর্ণিতে। তবে দৃষ্টিকটু আউট ছিল আগের দুই ম্যাচে। দুটোতেই তিনি আউট হয়েছেন সুইপ শট খেলতে গিয়ে। শুধু এই দুটি ম্যাচই নয়, শেষ কয়েক মাসে তিনি অন্তত ৮ বার এই শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন।

সুইপ হৃদয়ের প্রিয় একটি শট। তিনি বেশিরভাগ রানই করেন এই শট থেকেই। কিন্তু ৬৫ আন্তর্জাতিক ম্যাচের (ওয়ানডে+টি-টোয়েন্টি) মধ্যে এই ডানহাতি এত বেশি সুইপ খেলেছেন যে, তার এই শট এখন প্রতিপক্ষ দলগুলোর বোলারদের কাছে ‘দুর্বলতা’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হৃদয় ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার ম্যাচে আউট হয়েছেন শুধু সুইপ শট খেলতে গিয়েই। আবার এই শট খেলেই তিনি বেশিরভাগ রানও করেছেন। এই দুটোর মধ্যে যে সামঞ্জস্য সেটাই হলো খেলার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা। সুইপ খেলার মতো বল পেলে একজন ব্যাটসম্যানের সুইপ করাটাই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু কোন ধরনের উইকেটে সুইপ করছেন, কোন সিচুয়েশনে, ঐ মুহূর্তে এমন শট খেলা উচিত হবে কি না সেটাও একজন ব্যাটসম্যানকে চিন্তা করতে হয়। তাছাড়া সামনে বোলারটা কে আছে? তাকে সমীহ করতে হবে কি না? এসব খেলার সচেতনতাই মূলত একজন ব্যাটসম্যানের থাকা উচিত।

অনেক সময় হৃদয় অন বা অফে ড্রাইভ করার বলকেও সুইপ করছেন। অন্যান্য শটের ক্ষেত্রে তিনি পারদর্শী হলে যে বল সুইপের তিনি সুইপই করবেন, আবার যে বল অন ড্রাইভের সেটা অন ড্রাইভই করবেন। কিন্তু তার আগে প্রয়োজন সবগুলোতে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে নেওয়া।

হৃদয়ের একটা কমন সিঙ্গেল স্টপিং জোন আছে। আফগানিস্তান সিরিজেও সেটা দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি ম্যাচেও দেখা গেছে প্রতিপক্ষ দল শর্ট মিডউইকেটে ফিল্ডার রেখে তাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কারণ তিনি ঐদিক দিয়েই সিঙ্গেল নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ফিল্ডার থাকায় সেটা পারছিলেন না। যে কারণে রানের জন্য তিনি হাঁসফাঁস করছিলেন, তাই তিনি বড় শট খেলতে গিয়েছিলেন সুইপের মাধ্যমে। আর সেটা করতে গিয়েই বেশিরভাগ সময় আউট হচ্ছেন।

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করেন হৃদয়কে একটু সময় দিলেই এই ব্যাপারটা থেকে বের হয়ে আসতে পারবেন। ‘ওয়ানডেতে হৃদয় রান পাচ্ছেন না শেষ চার ম্যাচে। এর আগে ৯৬ রানের একটা ইনিংস আছে তার। এছাড়া সবশেষ টি-টোয়েন্টিতেও ফিফটি আছে। তার আগে চার ম্যাচ ছিল বলার মতো রান। এই কয়েক ম্যাচ রান না পেলেই শটের রেঞ্জ বাড়াতে হবে বলে আমি মনে করি না। তাকে সময় দিতে হবে।’

আশরাফুল বলেন, ‘সবাই তো সব শট খেলতে পারে না। স্টিভ ওয়াহ দুই শট খেলেই ১১ হাজারের বেশি রান করেছে। হৃদয়কে মাঠে টিকে থাকতে হবে, নিজের রেঞ্জের বলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবেই ব্যাটে রান আসবে। এটা নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত হওয়ার কিছু আছে বলে মনে করি না।’

স্টিভ ওয়াহর সময়েও ক্রিকেটে এত আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। দলগুলো তখনো ভিডিও অ্যানালিস্ট যুক্ত করা শুরু করেনি। তাই এই অস্ট্রেলিয়ান রান পেয়েছেন। তবে এখনকার আধুনিক ক্রিকেটে সেটা অসম্ভব।