দেশে তামাকজনিত রোগে বছরে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। আর তামাক কোম্পানিগুলো সরকারকে যে পরিমাণ রাজস্ব দেয়, তার চেয়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয় হচ্ছে তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও তামাক কর বৃদ্ধি : গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে যৌথভাবে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।
সেমিনারে বক্তারা মত দেন, দেশের মানুষের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে বিদ্যমান ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩)’ এখনই ডব্লিউএইচওর ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল এফসিটিসি’র আলোকে সংশোধন করা প্রয়োজন। সেমিনারে প্রধান অতিথি মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সর্বক্ষেত্রেই তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব লক্ষণীয়। তারপরও দেশে তামাক কোম্পানির ব্যবসা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ দুর্বল আইন। তাই বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাস করে অধ্যাদেশ আকারে জারি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, তামাক কোম্পানির লক্ষ্য শুধু মুনাফা অর্জন, জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। তারা ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য নানা কূটকৌশলে কিশোর ও তরুণদের সিগারেট সেবনে উৎসাহী করছে।
ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বীর সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।
সেমিনারে অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু তামাক কোম্পানি এবং তাদের পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠন আইন সংশোধনের বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, আইন সংশোধন হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। অথচ ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হওয়ার পর ২০০৫-০৬ ও ২০০৬-০৭ অর্থবছরে সিগারেট খাতে রাজস্ব আয় বেড়েছে যথাক্রমে ১৮ ও ৩৮ শতাংশ এবং ২০১৩ সালের সংশোধনীর পর ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সিগারেট খাতে রাজস্ব আয় বেড়েছে যথাক্রমে ২৬ ও ৪৭ শতাংশ। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী এখনই অধ্যাদেশ আকারে জারি করা উচিত।
ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অধূমপায়ীদের সুরক্ষায় প্রদান এবং নতুন প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর দিক থেকে বাঁচাতে প্রস্তাবিত আইন দ্রুত পাস করতে হবে।