নগরীর সড়ক পথে ইট-বালু, চলাচলে দুর্ভোগ 

কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতের ওপর নির্মাণসামগ্রী ইট, বালু ও পাথর স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। এমনকি কিছু সড়ক ও ফুটপাত ভাসমান দোকান দখল করে রেখেছে। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে পথচারীরা।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চলাচলের উপযোগী সড়কগুলো প্রশস্ত করা হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতের ওপর ভাসমান দোকান দিয়েছে। আবার কিছু এলাকায় বাসাবাড়ির নির্মাণসামগ্রী বালু ও ইট ফেলে রাখা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালানো হয়। তখন কয়েক দিন সড়কগুলোর অবস্থা ভালো থাকে। কিছুদিন পর আগের অবস্থায় ফিরে যায় সড়কের দৃশ্য।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

সরজমিনে দেখা যায়, নগরীর শাকতলা মডার্ন হসপিটালের নিকটবর্তী দু'পাশের প্রধান সড়ক ও ফুটপাতে বালু, পাথর ও ইট স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ হাঁটার পথ অনেকটা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাশেই শাকতলা প্রাইমারি ও হাইস্কুল। শিক্ষার্থীরা ঘুরেফিরে হাঁটাচলা করতে হয়, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সড়ক দুর্ঘটনায় সম্ভাবনা বেশি। গত কয়েকমাস আগে এসবের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি শিশু বাচ্চার মৃত্যু হয়।

শাকতলা এলাকার বাসিন্দা আশিক বলেন, শাকতলা মডার্ন হসপিটালে আমার একটি ক্যান্টিন আছে। প্রতিনিয়ত যাওয়ার পথে ইট-বালির কারণে হাঁটতে কষ্ট হয়। এ সড়কের আধা কিলোমিটার সড়কের দু'পাশে এবং ফুটপাতে ইট-বালু। দুর্ভোগ নিয়েই চলতে হচ্ছে।

কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম নামের এক ব্যক্তি সড়কের ওপর ইট-বালু স্তুপ করে রেখেছেন। তিনি বলেন, এসব রাখার তেমন জায়গা না থাকায় এখানে ইট-বালু রেখেছি। তবে এসব অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাব।

এ ছাড়া নগরের রানীর বাজার এলাকায় একাধিক স্থানে সড়কের মধ্যে বালু স্তুপ করে রাখার ফলে সড়ক সংকুচিত হয়ে আছে। এই সড়কে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। বালুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনায় পড়েন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

কুমিল্লা সিটিকর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামছুল আলম বলেন, রাস্তার মধ্যে নির্মাণসামগ্রী স্তুপ করে না রাখার জন্য  বলা হয়েছে। কিছু অসাধু লোক রাখে। ফুটপাতসহ রাস্তায় কেউ যদি মালামাল অপসারণ না করে, তাহলে আমরা পুনরায় অভিযান পরিচালনা করব।