বিএনপি নেতা মুরাদ বললেন, ‘থানা পুলিশ আমার পকেটে’

সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপাপ্ত সভাপতি মুরাদ হোসেনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ চান্দুলিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যে মুরাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ভুক্তভোগীরা সাভার মডেল থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে সাভার মডেল থানার সামনে মুরাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেছে। এত কিছুর পরও শুধুমাত্র বিএনপি করায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

সাভার সেটেলমেন্ট অফিসের সামনে এক আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করা মুরাদ হোসেনের সনদ না থাকলেও নিজেকে আইনজীবী দাবি করে এলাকার নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তার মামলায় আসামি হয়ে অনেকে ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে শাসক নয়, জনগণের সেবক হয়ে থাকতে চাই- জানিয়ে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও এখনই তার অত্যাচারে এলাকাসীরা অতিষ্ঠ। ইতিমধ্যে শয়ন নামের সনাতন ধর্মালম্বী পরিবারের এক যুবককে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে নিজের টর্চার সেলে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করায় তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর মা চন্দনা রানী ঘোষ। অভিযোগে বিএনপি নেতা মুরাদ হোসেন, তার সহযোগী আমির হোসেন, মো. শাওনসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী চন্দনা রানী ঘোষ বলেন, আমার ছেলে শয়ন বাসা থেকে বের হয়ে চান্দুলিয়া তিন রাস্তার মোড়ে গেলে বিএনপির নেতা মুরাদ ও তার সহযোগীরা ওকে চড়-থাপ্পড় মারতে মারতে পাশের রফিকের দোকানের পেছনে নিয়ে যায়। পরে সেখানে সিমেন্টের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছেলেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।

চন্দনা রানী ঘোষ আরও বলেন, ছেলেকে মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করায় মুরাদ ও তার সহযোগীরা গালিগালাজ করে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী হিন্দু ধর্মাবলী পরিবারের লোকজন প্রতিবাদ করায় তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাছাড়ার হুমকি দিয়েছেন মুরাদ।

অপর অভিযোগের বাদী গৃহবধূর স্বপ্না আক্তার বলেন, চান্দুলিয়া এলাকার বিএনপি নেতা মুরাদ হোসেন, তার সহযোগী জাহাঙ্গীর, ইমরান, আমির হোসেন, রাজ্জাক, রফিক ও শাওন এলাকার বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ান। তাদের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় হুমকি ও ভয়-ভীতিসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমি এসব করতে নিষেধ করায় তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এখন আমি ও পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

আরেক ভুক্তভোগী জুয়েল রানা বলেন, বিএনপি নেতা মুরাদ হোসেন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের অপকর্মের শেষ নাই। তাদের অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় তাদের ১০-১২ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গত মঙ্গলবার আমার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে হত্যার হুমকি দিয়ে বলেন থানা পুলিশ ও সাভার সার্কেল তাদের পকেটে থাকে। তাই অভিযোগ করলেও পুলিশ তাদের কথা মতোই কাজ করবে। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বর্তমানে মুরাদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

সীমা নামের এক নারীর অভিযোগ, বিএনপি নেতা মুরাদ হোসেন, তার সহযোগী রফিক মিয়া, আমির হোসেন, শাওন, ইমরান, ড্রাইভার জাহাঙ্গীর, মালেক, আব্দুর রাজ্জাক, আলমসহ বখাটেরা রাস্তাঘাটে মেয়েদের দেখলেই বিভিন্ন আপত্তিজনক কথাবার্তা বলেন। এর প্রতিবাদ করায় তাকে মাদক মামলাসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানো এবং তার স্বামীকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন হত্যা মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। মুরাদ বাহিনীর অত্যাচারে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আমাদের বাড়িঘরে বসবাস করাই দায়। বিষয়টি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা আতঙ্কে আছি।

তবে এতসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মুরাদ বলেন, আমার জনপ্রিয়তা ঈর্ষান্বিত হয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষররা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ব্যানার ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলছে। আমিও থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমার ওপর হামলা এবং অপপ্রচারের বিচার চাই।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহীনুর কবির বলেন, বিএনপি নেতা মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় মুরাদ হোসেনও এলাকাবাসীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। তবে তদন্ত ছাড়া অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণ না করায় তিনি বিভিন্নভাবে আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন। উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।