আগস্ট বিপ্লবে শহীদদের তালিকা করে জাতীয় বীর ঘোষণার দাবি

আগস্ট বিপ্লবে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে তাদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা, শহীদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও পুনর্বাসন এবং আহতদের সুচিৎসাসহ তাদের যথাযথ কর্মসংস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

আজ দুপুর দেড়টায় রাজধানীর একটি মিলনায়তনে কেটিভি-২৪ আয়োজিত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় ও উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কেটিভি-২৪-এর চেয়ারম্যান সৈয়দ মাশুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর মো. ইমরান, ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার, কমোডর সিদ্দিকুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোস্তফা কামাল, ছাত্রনেতা আনিসুর রহমান ও জোবায়ের সিদ্দীকি প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশে এক নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে। বিপ্লবীরা জনগণের নায্য অধিকার এবং বৈষম্যমুক্ত ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছে। দুনিয়াতে কোনও পুরস্কার দিয়ে তাদের মূল্যায়ন করা সম্ভব নয় বরং তাদের প্রকৃত পাওনা হচ্ছে জান্নাত।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী বাকশালী সরকার ও তাদের দোসররা তাদের সন্ত্রাসী এবং রাজাকারের নাতি-পুতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে।

আওয়ামী সরকারের আমলে জামায়াতের ওপর জুলুম-নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, বিগত সরকারের আমলে এমন কোনও জুলুম-নির্যাতন নেই যা জামায়াতের ওপর চালানো হয়নি। তারপরও আমরা শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। জীবন্ত শহীদ ও শহীদ পরিবারের বিষয়ে সরকারের  উদাসীন থাকার সুযোগ নেই বরং আগস্ট বিপ্লবীদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিজয়কে নস্যাৎ করার জন্য পতিত স্বৈরাচার এবং তাদের দোসররা এখনও নানাবিধ ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তারা কখনও আনসার, কখনও সংখ্যালঘু আবার কখনও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের রূপ নিয়ে সরকারকে ব্যর্থ ও বিব্রত করার অপতৎপরতায় লিপ্ত। তাই এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।