ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারির আহ্বান

‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সকল ছাত্রসংগঠনকে কাজ করতে হবে’

বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে নোংরামি ছিল। আমাদের পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন নোংরা ছাত্ররাজনীতি নেই। আমাদের রাজনীতি প্রচুর নোংরা হয়ে গেছে। এখন এসব ত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সকল ছাত্রসংগঠনকে কাজ করতে হবে। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম। 

শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন এজে কনভেনশন হলে দেড় হাজার নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাজনীতিবিদরা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতিকে নিজেদের সুবিধার জন্য এটাকে ব্যবহার করেছে। যেমনটা আমরা দেখেছি ছাত্র আন্দোলন প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উসকে দিয়েছে। দেশ গড়ে তুলতে হলে এই অপরাজনীতির সংস্কৃতি ত্যাগ করতে হবে। ক্যাম্পাসের ছাত্র রাজনীতি হবে দেশপ্রেম, শিক্ষার্থীদের অধিকার, একাডেমিক ইস্যু ইত্যাদি শিক্ষার্থীবান্ধব বিষয় নিয়ে। ক্যাম্পাসে কোনো দখলদারিত্বের রাজনীতি মেনে নেওয়া হবে না। 

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি বলেন, গত ১৫ বছরে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ছাত্রশিবির সম্পর্কে জানতে পারেনি। দেশব্যাপী এক ধরণের ভয়ের সংস্কৃতি ছিল। আমরা কারো ব্যক্তি আদর্শ নিয়ে কাজ করিনা। তবে আদর্শিকভাবে কেউ আমাদেরকে মোকাবেলা করতে পারবে না। আমরা কোনো শিক্ষার্থীকে জোর জবরদস্তি করে বলি না যে ছাত্রশিবির করতে হবে। আমরা চাই একজন মানুষ হিসেবে আপনারা নীতি নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও ইসলামি মূল্যবোধ বজায় রাখেন। আমরা কাউকে সাম্রাজ্যবাদের সুযোগ দিব না। রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এখানে বাইরের কেউ এসে আমাদের ওপর সাম্রাজ্য বিস্তার করবে সেটা আমরা কেউ মেনে নিব না। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ছাত্র জনতার বিপ্লবের সময়কার খুনিদেরকে অর্থের বিনিময়ে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সেক্টরে ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে তাদের পদে বহাল রাখা হয়েছে। তাদেরকে বাদ দেওয়া ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সকল আবর্জনা দূর করে বাংলাদেশকে নতুন করে তুলতে হবে 

তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা আসে মানবাধিকা ফেরি করতে আসে। যারা বিশ্বজুড়ে যারা বিভিন্ন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তারাই এসে আমাদেরকে মানবাধিকারের কথা বলে। যারাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারাই শৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলে। আমরা এমন দল না। ছাত্রশিবির মনমগজ সম্পন্ন মানুষ তৈরি করে। যারা দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। যাদের মধ্যে থাকবে নীতিনৈতিকতা, দেশপ্রেম। 

বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি নাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শিক্ষা ও এইচআরএম সম্পাদক হাফেজ মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী, ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী, কেন্দ্রীয় প্লানিং ও ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ডা. ওসামা রায়হান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন।