জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত কাজল মিয়াকে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের বেজথানি হাসপাতালে নেওয়ার সমস্ত আয়োজন শেষ করেছে সরকার। আজ রবিবার রাত ৭টায় সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। পরে রাত ১২টার দিকে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। কাজলের সাথে তার স্ত্রী সিনথিয়া যাচ্ছেন।
কাজল গত তিন মাস ধরে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স (নিনস) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা হুমায়ুন কবির হিমু দেশ ও রূপান্তরকে এই তথ্য জানান।
জানা গেছে, কাজল মিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংলিশ বিভাগের ছাত্র। শুরু থেকেই আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। পুরো জুলাই মাস ও আগস্টের শুরুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। কাজলের বড় ভাই রুবেলের বাসা যাত্রাবাড়ীতে। ৪ আগস্ট ভাইয়ের বিয়ের বর্ষপূর্তিতে অংশ নিতে বড়ভাই রুবেলের বাসায় যান। পরের দিন আন্দোলনের 'লংমার্চ ফর ঢাকা'। ৫ আগস্ট ভোরেই আন্দোলনে যোগ দিতে বাসা থেকে বের হয়ে যাত্রাবাড়ীতে যান। সেখানে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের গুলির মুখে সবাই রাস্তা ছেড়ে দিলেও রাস্তায় সাহসিকতার সাথে দাঁড়িয়ে থাকেন কাজল। রংপুরের আবু সাঈদের মতো দু'হাত ছড়িয়ে দেন তিনি। পুলিশ তার মাথায় গুলি চালায়। লুটিয়ে পড়ে রাস্তায়। পরে লোকজন উদ্ধার করে নিনস হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে মাথায় অপারেশন হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ধীরে ধীরে কাজলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। কিন্তু বাম হাত-পা পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। তার জন্য প্রয়োজন রোবটিক ফিজিওথেরাপি। কিন্তু দেশে সে ব্যবস্থা নেই। সেজন্য মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় তাকে বিদেশে নেয়ার। কিন্তু তার আগেই শারীরীক অবস্থার অবনতি হয়। গত দুদিন আগে হঠাৎ করে ইনফেকশন হয়। বেশ কয়েকবার ডায়রিয়া হয়। এতে রক্তচাপ কমে তিনি শকে চলে যান।
কাজলের বিষয়টি গতকাল শনিবারই স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে জানান হাসপাতালের চিকিৎসকরা। উপদেষ্টা দ্রুত বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু করেন। শনিবার ছুটির দিন হলেও কাজলকে বিদেশে নেওঃয়ার সব ব্যবস্থা করেন তিনি। সে রাতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে থাই অ্যাম্বেসিতে যোগাযোগ করা হয়। আজ দুপুরের মধ্যে ভিসার ব্যবস্থা করা হয়।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ৩১ হাজার ডলারের ব্যবস্থা করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। আজকে দুপুরের মধ্যে সে টাকা সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে এয়ার এম্বুলেন্স নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নাগরিক কমিটির ডা. আহাদসহ আরোও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কাজলকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন।