স্বামী চাকরি করেন না। এ কারণে স্ত্রীকেও চাকরি করতে না-দেওয়া অথবা চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়া হলে তাও নৃশংসতার সামিল বলে জানিয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।
গত সপ্তাহেই বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি মামলায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেশকুমার কাইত ও বিচারপতি শুশ্রূত ধর্মাধিকারীর নেতৃত্বাধীন ইন্দোর বেঞ্চ বলেছে, স্ত্রীকে সরকারি চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা এবং তাকে স্বামীর মর্জি অনুযায়ী বাঁচতে বলাটাও এক ধরনের নৃশংসতাই।
যে মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের এই নির্দেশ, তার সূত্রপাত ২০২০ সালে। আদালত সূত্রের খবর, স্বামী নিজে চাকরি না-পাওয়া পর্যন্ত তাকে চাকরি করতে দিতে চান না এবং তাকে নিজের মর্জিমাফিক বাঁচতে বাধ্য করছেন— এই যুক্তিতে পরিবার আদালতে মামলা করেছিলেন স্ত্রী। পাল্টা হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ৯ নম্বর ধারা তুলে ধরে তাদের বিয়ে টিকিয়ে রাখার আর্জি জানান স্বামী।
তাতে পরিবার আদালত স্ত্রীর আবেদন খারিজ করতে গিয়ে জানায়, তার ওপর ক্রুয়েলটি বা নৃশংস আচরণ হয়েছে বলে তিনি কখনও পুলিশে অভিযোগ জানাননি। পাশাপাশি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোটখাটো ঝগড়া বা মনোমালিন্যকে নৃশংসতা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না বলেও জানায় ওই ফ্যামিলি কোর্ট। এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন স্ত্রী।
অথচ ২০১৪ সালে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল দুজনের। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ঋণ প্রদানকারী সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত হন স্ত্রী। কিন্তু তার স্বামী তখন কোনো কাজ করতেন না। তাই তিনি স্ত্রীকে চাকরি করতে নিষেধ করেন। এ থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। তারপর দুজনের মধ্যে নানা কারণে মনোমালিন্য চলতেই থাকে। অবশেষে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন স্ত্রী।
হাইকোর্ট বলেছে, এ ক্ষেত্রে স্বামী বলেছিলেন, তিনি চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত চাকরি করতে পারবেন না স্ত্রী। এ ভাবে স্ত্রীকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা এবং নিজের ইচ্ছেমতো বাঁচতে বাধ্য করা নৃশংসতারই সামিল।
ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, শুধু এই চাকরির বিষয়টা নয়, দুজনের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না বলে মিউচুয়াল ডিভোর্স চেয়েছিলেন স্ত্রী এবং সেই পরিবার আদালত সেই আবেদন যে ভাবে খারিজ করেছে তা ত্রুটিপূর্ণ। স্ত্রীর ডিভোর্স চাওয়ারও যে বিরোধিতা করেছেন স্বামী, তাকেও ক্রুয়েলটির সমতুল বলে মনে করেছে হাইকোর্ট। সওয়াল-জবাব শেষে হাইকোর্ট স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনে সায় দিয়েছে।