৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার জনরোষে পিষ্ট পুলিশ সদস্যরা। চার শতাধিক থানায় হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। এই রোষানলে পড়ে ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। চারদিকে সংস্কারের আওয়াজ ওঠে। সবচেয়ে বেশি আওয়াজ ওঠে পুলিশ বাহিনী সংস্কারে। পরিবর্তন আসে পুলিশ প্রধান, ডিএমপির কমিশনারসহ সব মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের।
ঢাকা মহানগর ৫০ থানার ওসিসহ সব ধরনের পুলিশ সদস্যদের অন্যত্র বদলি করা হয়। কিন্তু এত পরিবর্তনেও পুলিশের টাকা চাওয়ার প্রবণতা রোধ হচ্ছে না। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে একটি মামলা নেওয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নজরুল ইসলাম শাহীন নামে খিলগাঁও এক বাসিন্দা রামপুরা থানার ওসির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন।
আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন শাহীন।
তিনি বলেন, ৯ আগস্ট সকালে আলমগীর হোসেন জীবন, বাবু, জীবনের ভাগনে রিপন, হারুন-অর-রশিদসহ আরও অনেক সন্ত্রাসী আমাদের সম্পত্তির উত্তর দিকের প্রাচীর ও কাঁচাপাকা ঘর ভেঙে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে ১৭টি কাঁচা পাকা ঘর ও গোডাউন ভেঙে ফেলে। গোডাউনে রক্ষিত ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোফাইল টিনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। সম্পত্তির কেয়ারটেকার মকবুল হোসেনের মেয়ে সোনিয়া এবং সোনিয়ার স্বামী সোলায়মান আসামিদের এতে কাজে বাধা দেন। কিন্তু আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। এতে আমার প্রায় ৩ কোটি টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় ও ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
শাহীন বলেন, এই ঘটনায় একটি এজাহার লিখে রামপুরা থানার ওসির কাছে গেলে তিনি পরদিন আসতে বলেন। পরদিন গেলে ওসি তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে রামপুরা থানার ওসি আতাউর রহমান আকন বলেন, আমি ২৩ আগস্ট রামপুরা থানায় যোগদান করেছি। আর এই রকম টালমাটাল অবস্থায় এই ঘটনা বিশ্বাসযোগ্য কিনা তা নিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন।
ওসি বলেন, এটা ভুয়া। এই ব্যক্তি রামপুরা থানায় কোনওদিন আসেননি। আর আমার কাছে তো নয়ই।