ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ফয়সাল খান ওরফে শুভ (৩০) নামে এক প্রেমিক তরুণীর প্রেমে মজে লাশ হয়ে কবরে শায়িত হয়েছেন। সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহত ওই প্রেমিক ফয়সাল খান ওরফে শুভ হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফয়সালের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে। ওই এলাকার ঈশ্বরগঞ্জ-আঠারবাড়ি সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে। ফয়সাল ওই গ্রামের মো. সেলিম খানের ছেলে।
মানববন্ধনে ফয়সালের ছোট ভাই নাজমুল খান বলেন, ‘আমার ভাইকে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ফয়সালের বন্ধু সাইফ খান ও মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘পুলিশ এখনো কেন আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না? কেন গড়িমসি করা হচ্ছে? আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবাইকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হোক।’
মানববন্ধন ফয়সালের প্রতিবেশী চাচা মো. নজরুল ইসলাম খান(৬৩) বলেন, ‘বাসায় অভিযানের সময় পুলিশ দুতলায় কথা বলছিল। পাঁচতলায় ছাদে কয়েকজন উঠে ফয়সালকে নিচে ফলে দেয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করে ময়মনসিংহ নগরের কেওয়াটখালী পাওয়ার হাউস রোডে বড় বোনের বাসায় থেকে চাকরির জন্য চেষ্টা করছিল ফয়সাল। তার সঙ্গে প্রায় চার বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এলাকার এক তরুণীর। ১৫ নভেম্বর তরুণীর বিয়ে ঠিক হওয়ায় ফয়সাল বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ জন্য তরুণীর বাবা সুলতান আহম্মেদ খান ঈশ্বরগঞ্জ থানা ও ডিবিতে পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ নভেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফয়সালের বোনের বাসায় অভিযানে যায় ডিবি।
নিহত ফয়সালের পরিবারের দাবি, পুলিশ যখন পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালায় ফয়সাল তখন ভবনের অন্য দরজা দিয়ে ছাদে চলে যায়। এসময় পুলিশের সাথে আসা সুলতান আহম্মেদ খান ও তার দুই ছেলে আসিফ রহমান খান অপু (২৪) এবং আহনাফ আব্দুল্লাহ খান অনির্বাণ (২০) ছাদে উঠে ফয়সালকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানের পর বাসার সামনে থেকে ফয়সালকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে স্বজনরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাজধানীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্ত শেষে গত শুক্রবার রাতেই ফয়সালকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য।
এ ঘটনায় গত ১২ নভেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানায় ফয়সালের বাবা মো. সেলিম খান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় তরুণীর বাবাসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
এদিকে পরিবার, এলাকাবাসী ও ফয়সালের বন্ধুমহলসহ দেড় শতাধিক মানুষ আজ সোমবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি জানান। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এবিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।