জাহান্নামের ভয় প্রত্যেক মুমিনেরই রয়েছে। কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা তোমাদের নিজেদের আর তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো। যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে মোতায়েন আছে পাষাণ হৃদয় ও কঠোর স্বভাব ফেরেশতা। আল্লাহ যা আদেশ করেন, তা তারা অমান্য করে না, আর তারা তাই করে, তাদের যা করার জন্য আদেশ দেওয়া হয়। (সুরা তাহরিম ৬)
জাহান্নামে মৃত্যু নেই এবং শাস্তিও হ্রাস করা হবে না। এ ব্যপারে কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তাদের মৃত্যুর আদেশও দেওয়া হবে না যে তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে শাস্তিও লাঘব করা হবে না। (সুরা ফাতির ৩৬) রাসুল (সা.) বলেছেন, এক হাজার বছর দোজখের আগুন জ্বালানো হয়, তখন তা লাল রঙ ধারণ করে। এরপর আরও এক হাজার বছর জ্বালানো হয়, তখন তা সাদা রঙ ধারণ করে। তারপর আবার এক হাজার বছর জ্বালানো হয়, তখন তা কালো রঙ ধারণ করে। এখন তা ঘোর কালো বর্ণে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছে। (তিরমিজি)
দোজখ সাতটি। জাহান্নাম, জাহিম, হাবিয়া, হুতামা, লাজা, সাকার, সায়ির। জাহান্নাম সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, আর হাঁকিয়ে নেওয়া হবে দলে দলে কাফেরদের জাহান্নামের দিকে। (সুরা জুমার ৭১) জাহিম সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘ফেরেশতাদের বলা হবে, ধরো, একে গলায় বেড়ি পরিয়ে দাও। অতঃপর নিক্ষেপ করো জাহিমে।’ (সুরা হাক্কাহ ৩০-৩২) হাবিয়া সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর যার নেকির পাল্লা হালকা হবে তার ঠিকানা হবে হাবিয়া দোজখ। আপনি জানেন, হাবিয়া দোজখ কী? তা হলো প্রজ্বলিত অগ্নি।’ (সুরা কারিয়া ৮-১১) হুতামা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘কখনো নয়, তাদের নিক্ষেপ করা হবে হুতামা জাহান্নামে। আপনি জানেন হুতামা কী? এটা আল্লাহর প্রজ¦লিত অগ্নি, যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছবে।’ (সুরা হুমাজাহ ৪-৭) লাজা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘কখনো নয়, নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি যা চামড়া তুলে দেবে।’ (সুরা মাআরিজ ১৫-১৬) সাকার জাহান্নাম বর্ণিত হয়েছে, ‘জান্নাতিরা জাহান্নামিদের জিজ্ঞেস করবে, তোমরা কেন সাকার দোজখে এলে? তারা বলবে আমরা নামাজি ছিলাম না এবং মিসকিনদের আহার করাতাম না। (সুরা মুদ্দাসসির ৪২-৪৪)
সায়ির দোজখ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিঃসন্দেহে যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে তারা তাদের পেটে আগুনই ভরছে। আর শিগগিরই তারা সায়ির নামক দোজখে ঝলসে যাবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের সব ধরনের দোজখের ভয়াবহতা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।