ইবিতে ফের নবীন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং, জড়িতরা থানা হেফাজতে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে লালন শাহ হলের ৫ শিক্ষার্থীকে থানায় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের র‍্যাগিংয়ের সময় হাতেনাতে ধরেন লালন শাহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। সোমবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলের ৩৩০ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্ত পাঁচজনকে থানায় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তির পর ২ নভেম্বর থেকে ক্রমাগতভাবে বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর হাতে র‍্যাগিংয়ের শিকার হন তারা।

অভিুযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাব্বির হোসেন, শেয়ান শরীফ শেখ, লিমন হোসেন, কান্ত বড়ুয়া, শফিউল্লাহ, তরিকুল ও মুকুল। এছাড়াও ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সঞ্চয় বড়ুয়া।

জানা যায়, ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজনকে পাঁচ রকম হাসি দিতে বলা হয়, বাজে ভাষায় কথা বলতে বলা হয় এবং নাচতে বলা হয়। পরিচয় শেখানোর নামে যৌন বিকৃতিমূলক আচরণ করানো হয় তাদের সঙ্গে। এ ছাড়া নানা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে। 
এর আগেও গত ১৬ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে নবীন ১২ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস পার্শ্ববর্তী সাদী এন্ড হাদী ছাত্রাবাসে ডাকেন অভিযুক্তরা। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের রাত আড়াইটা পর্যন্ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অশ্লীল কিছু করতে বলা হয়। পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়। এসব কর্মকান্ড সঙ্গে জড়িত ছিলেন ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শফিউল্লাহ, তরিকুল, মুকুল, সাব্বির, সাকিব, শেহান, কান্ত বড়ুয়া এবং জিহাদ।

এদিকে র‍্যাগিং চলা অবস্থায় অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরেন হলটির সিনিয়র শিক্ষার্থী হাসানুল বান্না। তিনি বলেন, আমার কাছে অভিযোগ আসে হলের ৩৩০ নং রুমে র‍্যাগিং চলছে। খবর পাওয়ার সঙ্গেই  আমি সেখানে গিয়ে দেখি, সাব্বির এবং সঞ্চয় দুজন মিলে ওদেরকে র‍্যাগ দিচ্ছে। পরে ঘটনা জিগ্যেস করলে তারা অস্বীকার করে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ভুক্তভোগীরা নিশ্চিত করে তাদের র‍্যাগিং দেওয়া হচ্ছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের থানায় পুলিশি হেফাজতে সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘আপাতত তাদের পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ইবি থানার ডিউটি অফিসার এস আই মাসুদ বলেন, ‘আপাতত তারা আমাদের হেফাজতে আছেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’