বছর না যেতেই ২ কোটির সড়ক ভেঙে পুকুরে

সড়ক নির্মাণের বছর না যেতেই কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকার সড়কের দুপাশ ভেঙে পুকুরে পড়ছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে খানা-খন্দকের। সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বাঙ্গড্ডা ও পেড়িয়া ইউনিয়নের কাকৈরতলা থেকে চেহরিয়া জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়কের এমন চিত্র দেখা যায়। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সড়কটি নির্মাণে নিম্নমানের কাজসহ বিভিন্ন পুকুরের পাশে গার্ডওয়াল নির্মাণ ক্রটি এবং গার্ডওয়ালের পাশে মাটি না দেওয়াকে দায়ী করছেন।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের চেহরিয়া জামে মসজিদ থেকে কাকৈরতলা সড়কটি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মা-মনি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ২০২৩ সালের শেষের দিকে সড়কের কাজ শেষ হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সড়কটির বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের কাকৈরতলা অংশে ঢুকতে দুলালের বাড়ির পেছনে একটি বড় ধরণের খানা-খন্দক দেখা যায়। এছাড়া সড়কটিতে নিম্নমানের ইটের টুকরা এবং ভালোভাবে কার্পেটিং না করায় শুরুতেই সড়কটির বিভিন্নস্থানে ছোট-বড় অনেক খানা-খন্দক দেখা যায়। বিশেষ করে সড়কটির রামেরবাগ অংশে হাফিজুর রহমানের পুকুরের পাশের বিশাল অংশজুড়ে সড়কটিতে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। পুকুরের পাশে পাড় থেকে অনেক নিচে গার্ডওয়াল নির্মাণ করায় এবং গার্ডওয়ালের পাশে মাটি না দেওয়ায় সড়কটি প্রতিনিয়ত পুকুরে ভেঙে পড়ছে। পুকুরের দক্ষিণ পাশে একটি পুরনো কালভার্ট থাকলেও কালভার্টটি নতুনভাবে নির্মাণ না করে পুরনো কালভার্টটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে কালভার্টের পুরনো রড দিয়ে স্ল্যাব বানিয়ে পুরনো কালভার্টের উপর শুধুমাত্র স্ল্যাব বসিয়ে আস্তর দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে, সড়কটির চেহরিয়া অংশে চেহরিয়া পশ্চিমপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন পুকুরে গার্ডওয়াল ঠিকভাবে নির্মাণ না করায় সড়কের পাশের মাটি ভেঙে পুকুরে পড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার পকুরের গার্ডওয়াল ৫ফুট উচ্চতায় করার কথা থাকলেও ৩ফুট উচ্চতায় কাজ সম্পন্ন করে। এ ছাড়া গার্ডওয়ালের পাশে মাটি না ফেলায় সড়কের পাশের মাটি নিয়মিত ভেঙে সড়কটি পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সড়কটির চেহরিয়া অংশে ডাক্তার লুৎফুর রহমানের বাড়ি থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে কাদবা গ্রামের মহিউদ্দিন বলেন, সড়কের পাশে আমাদের একটি পুকুর রয়েছে। সড়ক থেকে পুকুরের অংশে ১৫ফুট ভরাট ছিল। ঠিকাদার গার্ডওয়ালের পাশে পুকুর থেকে মাটি নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। ওই সময় ঠিকাদারকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে সে জানায়, গার্ডওয়াল করার পর মাটি ভরাট করে দেওয়া হবে। পরে তারা গার্ডওয়ালের পাশে মাটি ভরাট না করায় সড়কটি পুকুরে ভেঙে যাচ্ছে এবং গার্ডওয়াল পর্যন্ত পুকুরে পরে গেছে।

চেহরিয়া গ্রামের সরওয়ার আলম বলেন, সড়কটির আমার পুকুরের পাশে গার্ডওয়াল নির্মাণ কাজ ভালো হয়নি। গার্ডওয়াল নির্মাণ করলেও গার্ডওয়ালের পাশে মাটি ভরাট করে নাই। পরে প্রায় ২০হাজার টাকা ব্যয় করে আমাকে মাটি ভরাট করতে হয়েছে।

রামেরবাগ গ্রামের কালাম বলেন, ঠিকাদারকে কালভার্টটি নতুন না পুরাতন হবে এ কথা জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, নতুন কালভার্ট হবে। পরে সে কালভার্টটি ভেঙে কালভার্টের পুরাতন রড দিয়ে স্ল্যাব তৈরী করে ভাঙ্গা কালভার্টের উপর স্ল্যাব বসিয়ে আস্তর করে দেয়।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদ্র বার্তা পার্টিও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের সময়কাল এখনো চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারকে  চিঠি প্রদান করা হয়েছে। যাতে করে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করে দেওয়া হয়।