১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে ‘বাকশাল’ গঠন সম্পর্কিত সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংশোধনী কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা’র হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে। চতুর্থ সংশোধনী আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন।
আবেদনে এ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণাসহ বাতিল চাওয়া হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা সুলতানা।
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাশ হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা কায়েম করে সর্বময় ক্ষমতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে দেওয়া হয়। সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে সংবিধানে একটি নতুন ভাগ (ষষ্ঠ-ক ভাগ) যুক্ত করা হয়। চতুর্থ সংশোধনীর ক্ষমতাবলে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামে নতুন একটি দল গঠন করা হয়।
এর ফলে অন্য সব রাজনৈতিক দলের বিলুপ্তি ঘটে। দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা জারি হয়। এ সংশোধনীর ফলে দেশে চারটি ছাড়া বাকি সব সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয় এবং চারটি সংবাদপত্র প্রকাশনার দায়িত্ব নিয়ে আসা হয় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া অসদাচরণ ও অসমর্থতায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের অপসারনের ক্ষমতা দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতির হাতে।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৯৭৩ সালে সংসদীয় পদ্ধতিতে নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয়। কিন্তু রাতারাতি সংসদীয় পদ্ধতি পরিবর্তণ করে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে বঙ্গবন্ধু সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়। যেখানে কোনো বিরোধী দল ছিলনা। মোটকথা ওই সংশোধনীর সবকিছুই ছিল আমাদের সংবিধানের মৌলিক যে ভিত্তি তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যে কারণে ওই সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়েছি। আদালত রুল দিয়েছেন।’