বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘অত্যাবশ্যকীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচন দিন।’ তিনি বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে উপলব্ধি করতে হবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে সংস্কার অত্যাবশ্যকীয় সেগুলো শেষ করে দ্রুত একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। এটি শুধু আমার কথা নয়, একজন রিকশাচালক, দিনমজুর, গৃহশ্রমিক, নারী শ্রমিককে জিজ্ঞেস করুন। তারাও একই কথা বলবেন।’
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক কমিটির উদ্যোগে ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক কর্মশালার ঢাকা বিভাগ অংশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মঈন বলেন, ‘তরুণ সমাজকে জিজ্ঞেস করুন, যারা বিপ্লব এনেছে, তারা কি ভোটার হয়ে একবারও ভোট দিতে পেরেছেন? পারেননি। তাই ভোটের অধিকার ১২ কোটি ভোটারের মধ্যে ফিরিয়ে দিতে হবে। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সে অনুযায়ী জনগণের কল্যাণে ৩১ দফা সংস্কার আমরা করব।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজ যারা সংস্কারের কথা বলছেন, তাদের অনেককে আন্দোলন সংগ্রামে দেখিনি। আজ বিখ্যাত লোকেরা বড় বড় টেলিভিশনে বক্তব্য দিচ্ছেন। বিগত বছরগুলোয় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশ, এসবি, ডিবির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে এক লাখ মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল, ৬০ লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছিল, রাতের অন্ধকারে ধানক্ষেত দিয়ে পালাতে হতো, তাদের কথা ভাবুন। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশের বিপ্লবের মূল সত্য। এই সত্য কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।’ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সত্যিকারের জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সংসদ গঠন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুলের সভাপতিত্বে কর্মশালা সঞ্চালনা করছেন দলটির প্রশিক্ষণবিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব এবিএম মোশাররফ হোসেন। কর্মশালাটি পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগে আয়োজন করা হবে।