চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ দমন এবং সার্বক্ষণিক নাগরিক নিরাপত্তার কথা ভেবে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ২০২১ সালে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরবাজার ব্যবসায়ী সমিতি এ উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশের সহযোগিতায় কয়েক ধাপে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৩২টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বর্তমানে এর সবগুলোই বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে প্রমাণ না থাকায় পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। এ সুযোগে এলাকায় বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে থেকে বিকল ছিল কয়েকটি সিসি ক্যামেরা। কিন্তু আন্দোলনের পর থেকে সবগুলো সিসি ক্যামেরাই বিকল হয়ে পড়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশ ও ক্যামেরা স্থাপনকারী টেকনিশিয়ান সূত্রের তথ্যানুযায়ী, পৌর এলাকায় স্থাপন করা ৩২টি আইপি ক্যামেরার সবগুলোই অচল হয়ে গেছে।
সরেজমিনে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযুদ্ধ মোড়, কাঁচাবাজার, কালিবাড়ি রোড, বসুন্ধরা রোড, গো-হাঁটা, ঈশ্বরগঞ্জ সরকারি কলেজ গেট, হাসপাতাল রোড, থানা রোডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের সিসি ক্যামেরা অকেজো।
পুলিশ জানায়, আগে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক অপরাধী শনাক্ত হয়েছে ব্যক্তিমালিকানাধীন অথবা বাজার মনিটরিং সিসি ক্যামেরা থেকে, যা এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামেরা লাগানো দরকার।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌরবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সহসভাপতি মৃত্যুঞ্জয় লাহাড়ি (৭৬) বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর থেকে বাজারের সবগুলো ক্যামেরা অচল হয়ে আছে। আগে বাজার ব্যবসায়ী সমিতি অফিস ও থানায় সিসিটিভির ফুটেজের মাধ্যমে নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করা হতো। কিন্তু এখন তা সম্ভব হচ্ছে না।’
পৌরবাজার ব্যবসায়ী এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি একেএম আতিকুর রাজ্জাক হিরা বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ও নাগরিক নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করা প্রয়োজন। দ্রুত ক্যামেরাগুলো মেরামত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আরও ক্যামেরা স্থাপন করা না গেলে পৌর এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়তেই থাকবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আমি এই থানায় যোগদানের সময় থেকেই ক্যামেরাগুলো নষ্ট পেয়েছি। তবে কিছু ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেছে সংস্কারের অভাবে। এগুলো স্থাপন এবং সংস্কার করা মূলত বাজার কমিটির দায়িত্ব। বিষয়টি নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়েও একাধিকবার আলোচনা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি কমিটি করার পরিকল্পনা রয়েছে। কমিটি গঠনের পর সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে বসে সিসি ক্যামেরা মেরামত ও সংযোগের ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিনা সাত্তার বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জ পৌরবাজার মূলত পৌরসভার অধীনে। সুতরাং এখানে বাজার কমিটি যদি অ্যাকটিভ না থাকে, তাহলে পৌরসভাকে প্রথমে বাজার কমিটিকে অ্যাকটিভ করতে হবে। বাজার কমিটি অ্যাকটিভ হলে তাদের সঙ্গে বসে উপজেলা ও বাজারের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের দিক থেকে যা যা করণীয় আমরা তা করব।’