ভোল পাল্টে ফের চাঁদাবাজিতে তারা

চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণকারী দুই অস্ত্রধারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোস্তফা কামাল টিপু এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইকবাল হোসেন প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। আগের মতোই আগ্রাবাদ এলাকায় চাঁদাবাজি করছেন বলেও স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। তাদের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ দুই অস্ত্রধারীর বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, হকারদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অবশ্য পুলিশ বলছে, এই দুজনের নামে থানায় একাধিক মামলা আছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, আগ্রাবাদ নাজিরপাড়া মগপুকুরপাড় এলাকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোস্তফা কামাল টিপু এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী একই এলাকার দাইয়্যেপাড়ার কথিত যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন কিছুদিন ধরে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় অনেকটা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। গত ১৮ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের পেছনের গলিতে ভান্ডারি হোটেলের পাশে ঠিকাদার ট্রেড ইউনিয়ন কার্যালয়ে দেখা গেছে ইকবাল হোসেনকে। এ সময় তার পরনে ছিল নীল রঙের প্যান্ট এবং জলপাই রঙের গেঞ্জি। এর আগের দিন একই এলাকায় দেখা গেছে মোস্তফা কামাল টিপুকে। তবে দুজনই দাড়ি ছেঁটে ছোট করে ফেলেছেন।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট দুপুরে নগরের নিউ মার্কেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর প্রকাশ্যে গুলি করেন মোস্তফা কামাল টিপু ও ইকবাল হোসেন। গুলি করার আগে টিপুর মাথায় সাদা এবং ইকবালের মাথায় ছিল হলুদ রঙের টুপি। এ সময় ইকবালের হাতের মুঠোয় ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির ম্যাগাজিন ছিল মোস্তফা কামাল টিপুর হাতে। আর তাদের এমন অবস্থার ছবি ও ভিডিও পরের দিন গণমাধ্যমে প্রচার এবং প্রকাশিত হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাং লিডার মোস্তফা কামাল টিপু মূলত ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চসিক ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করা স্থানীয় নজরুল ইসলাম বাহাদুরের হয়ে কাজ করতেন। বাহাদুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন টিপু। মতের অমিল দেখা দিলেই টিপু যে কারও ওপর হামলে পড়েন। তার বিরুদ্ধে ডবলমুরিংসহ বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, মারামারি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০১৯ সালে আগ্রাবাদে যুবলীগকর্মী জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রকাশ মারুফ চৌধুরী হত্যা এবং ২০২১ জানুয়ারিতে সিটি করপোরেশন নির্বাচন কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনায় খুন হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আজগর আলী বাবুল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মোস্তফা টিপু। এ ছাড়া টিপু ও ইকবাল জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও অস্ত্রবাজির অভিযোগে নগরের কোতোয়ালি, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ থানায় করা একাধিক মামলার আসামি।

স্থানীয় লোকজন জানান, ৫ আগস্টের পর অস্ত্রধারী এই দুই সন্ত্রাসী আত্মগোপনে চলে যান। সম্প্রতি তারা আবার আগ্রাবাদ এলাকায় ফিরে আসেন। এখনো তারা এলাকায় চাঁদাবাজি করছেন। আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের পেছনে বিদ্যুৎ ভবনের কথিত ঠিকাদার সমিতির অফিসকে আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছেন। টিপু এবং ইকবালকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ দুই অস্ত্রধারীর ছবি যুক্ত করে তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের নিয়েও কথা হচ্ছে ফেসবুকে। 

এ দুই অস্ত্রধারীর বিষয়ে নগরের ডবলমুরিং থানার ওসি কাজী রফিক বলেন, ‘মোস্তফা কামাল টিপু ও ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজির মামলা আছে। দুজনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তাদের আমরা খুঁজছি। গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।’ তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি।