বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘সংবিধান, পুলিশ, নির্বাচন কমিশনারসহ বিভিন্ন সংস্কার দ্রুত শেষ করে ডিসেম্বরের পর জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।’ গতকাল শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ বিজয় মেলার মাঠে এক কর্মী সম্মেলন ২০২৪ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলারা এখনো মাঠ প্রশাসনে আছেন। দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা না দিলে ফ্যাসিবাদীরা চক্রান্ত করে দেশ আবার নস্যাৎ করতে পারেন। ইউএনও, ডিসি, এসপি, এসআই, জজদের সঙ্গে কথা বললে এখনো বোঝা যায়, তাদের গায়ে ফ্যাসিবাদীর গন্ধ পাওয়া যায়। সাংবাদিকরা প্রায় বলেন, জামায়াতে ইসলামী যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন চায়, যৌক্তিক সময়ের ব্যাখ্যা কী? সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে একটু সময় লাগবে। যখন প্রশাসন সংস্কার শেষে বোঝা যাবে, নির্বাচন দিলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ লীগ আমাদের ভোট দিয়ে আসবে না। তখনই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা বিগত আমলে কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। কি নির্মম পরিহাস! আগস্ট মাসে আমাদের জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আর আল্লাহ তার চার দিনের মাথায় ৪৫ মিনিটের মধ্যে খুনি শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আর আমাদের আল্লাহ ইজ্জত দিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনে জামায়াত, শিবির, বিএনপি এবং নিরাপদ ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি করা হয়। এতে মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও মানিকগঞ্জের সাদ ও রফিকও নিহত হন। আমরা ৫ জুলাইয়ের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে সারা দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ঘুরি। নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াই। ৫ জুলাইয়ের দিনও পুলিশ আশুলিয়া, সাভার, ধামরাই নির্বিচারে গুলি করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলে।’
সভায় মানিকগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও অঞ্চল পরিচালক, ঢাকা উত্তর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা মো. নরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা উত্তরের অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসাইনসহ অনেকেই।
কর্মী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মী ছাড়াও জেলার ৭টি উপজেলার ২টি পৌরসভা এবং ৬৫টি ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার কর্মী দিয়ে বিজয় মেলার মাঠ কানায় ভরে যায়।