১৮ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শনিবার রাতে (২৪ নভেম্বর) মারা গেলেন হেলাল উদ্দিন। তাকে মাথায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছিল প্রতিবেশীরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছে চিকিৎসাধীন রয়েছেন হেলালের ছেলে হুমায়ুনও। ঘটনাটি গত ৬ নভেম্বর সকালের। সেদিন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, জমির আইল সমান করছিলেন মো. হেলাল উদ্দিন ও তার ছেলে হুমায়ুন। এ সময় প্রতিবেশী চান মিয়া ও তার স্ত্রী রোমেলা বেগম, তাদের ছেলে জাকির হোসেন, ছেলের স্ত্রী শাকিলা আক্তারসহ কয়েকজন তাদের বাধা দেয়। এ সময় বাধা না মানলে চান মিয়ার নেতৃত্বে পরিবারের সদস্যরা দা, চাপাতি নিয়ে তাদের কুপিয়ে জখম করে। এতে হেলাল উদ্দিনের মাথা দুই ভাগ হয়ে যায়। একই হাল হয় তার ছেলে হুমায়ুনেরও।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে হেলাল উদ্দিনকে এনাম মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। এনাম মেডিকেলে ১৮ দিন লাইভ সাপোর্টে ছিলেন হেলাল। আজ রবিবার বিকালে হেলাল উদ্দিনকে নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে তার ছেলে হুমায়ুনের মাথায় ১৪টি সেলাই করতে হয়েছে। তার অবস্থাও অবনতির দিকে। এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় হেলাল উদ্দিনের অপর ছেলে মেহেদি বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের কোনো সাহায্য করা হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবারটি।
শিমুলিয়া গ্রামের কয়েকজন বলেন, চান মিয়া ও তার ছেলে জাকির হোসেন আগেও গ্রামের কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করে। অনেককে মারধরও করেছে। তাদের কাছে থাকা অস্ত্র উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান এলাকাবাসী।
সাটুরিয়া থানার ওসি মো. শহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিনই থানায় একটি মারামারির মামলা নেওয়া হয়েছিল। শুনেছি একজন শনিবার রাতে মারা গেছেন। মেডিকেল রিপোর্ট পেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ দেবার জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হবে।