কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব শীর্ষনেতাই লোক প্রশাসন বিভাগের। সম্প্রতি ছাত্রশিবিরের কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসে একই বিভাগ থেকে শীর্ষনেতাদের নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। এ কমিটি দেওয়া হয় ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন লোক প্রশাসন ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে এসেছে ছাত্রশিবিরের কমিটি। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লোক প্রশাসন বিভাগের ১২তম ব্যাচের ইউসুফ ইসলাহী।
এ ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক হিসেবে গত ২৩ নভেম্বর দায়িত্ব পেয়েছেন লোক প্রশাসন বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু রায়হান। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন।
এ দিকে ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লোক প্রশাসন বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নোমান হোসেন নয়ন।
রাজনৈতিক দল ছাড়াও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠনেও শীর্ষ স্থানে আছেন লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্যে রক্তদাতা সংগঠন বন্ধু’র সভাপতি হিসেবে আছেন ১৩তম ব্যাচের মো. ওসমান গণি, বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন পাটাতনের সভাপতি হিসেবে আছেন মাসুম বিল্লাহ, রোভার স্কাউটস্ গ্রুপের গার্ল-ইন সিনিয়র রোভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাছরিন আক্তার। পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনেও নেতৃত্ব দিচ্ছে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়াও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমানে কোনো কমিটি নেই। সর্বশেষ কমিটির সভাপতিও ছিলেন লোক প্রশাসন বিভাগের ১ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন সবুজ। ২০২৩ সালে এ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
বিভাগের ১৮তম ব্যাচের এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে আসার পর যে দিকে তাকাই ওই দিকেই লোক প্রশাসন বিভাগ। এটা অন্য রকম একটা ভালো লাগা। এই ক্যাম্পাসে এসে মনে হচ্ছে এখানে লোক প্রকাশন একটা রয়েল ডিপার্টমেন্ট।
উল্লেখ্য, রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস হলেও সবসময়ই রাজনীতি সক্রিয় ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ এক যুগ ধরে একক কর্তৃত্ত্ব চালিয়ে আসে ছাত্রলীগ। যদিও ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে 'রাজনীতি মুক্ত' ক্যাম্পাসে ফের প্রশাসনিক আদেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়।