পাঁচ বিসিএসে ১৮১৪৯ জনকে নেবে সরকার

গেজেট হয়ে যাওয়া ৪৩তম বিসিএস থেকে শুরু করে আসন্ন ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৮ হাজার ১৪৯ জনকে নিয়োগ দেবে সরকার। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ১২ হাজার ৭১০ জন এবং নন-ক্যাডারে ৫ হাজার ৪৩৯ জন। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান এ তথ্য জানান।

তবে জনপ্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ৪৭তম বিসিএসের পর আরও দুই হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। সেগুলো আলাদা কোনো বিসিএসের মাধ্যমে নাকি নন-ক্যাডারের মাধ্যমে হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি। সব মিলে ২০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ক্যাডার পদে ৪৩তম বিসিএসে ২ হাজার ৬৪ জন, ৪৪তম বিসিএসে ১ হাজার ৭১০, ৪৫তম বিসিএসে ২ হাজার ৩০৯, ৪৬তম বিসিএসে ৩ হাজার ১৪০ এবং ৪৭তম বিসিএসে ৩ হাজার ৪৮৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া নন-ক্যাডার পদে ৪৩তম বিসিএস থেকে ৬৪২ জন, ৪৪তম বিসিএসের ১ হাজার ৭৯১, ৪৫তম বিসিএসে ১ হাজার ৫৭০, ৪৬তম বিসিএসে ১ হাজার ১১১ এবং ৪৭তম বিসিএসে ৩২৫ জন নিয়োগ দেবে সরকার।

এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে কত দিন সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে মোখলেস উর রহমান বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার নির্দেশনা দিয়েছি। সবশেষ যে ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার সার্কুলার আসছে, সেখানে দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলেছি আমরা। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার সার্কুলার জারি করা হবে।’ বিসিএসে কোটা পদ্ধতি কীভাবে প্রয়োগ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৭ শতাংশ অন্যান্য এবং ৯৩ শতাংশ মেধা সেভাবে হবে। সংবাদ সম্মেলনে চলমান কোন বিসিএসের নিয়োগ কোন অবস্থায় আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানান জনপ্রশাসন সচিব।

সচিব বলেন, ৪৩তম বিসিএসে ২ হাজার ৬৪ জনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি তাদের যোগদানের তারিখ নির্ধারিত আছে। অধিকতর স্বচ্ছতার স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থাÑ এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে অধিকতর যাচাই-বাছাই চলমান আছে।

গেজেট প্রকাশের পর এই নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ায় ‘ক্লিন ইমেজ’-এর প্রার্থী নিয়োগের স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থাÑ এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে অধিকতর যাচাই-বাছাই চলমান আছে।

৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের সময় ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা চলমান ছিল। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ১১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯৩০ জনের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল।

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে গত ২৫ আগস্ট ওই মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সম্প্রতি নতুন কমিশন গঠনের পর ‘অধিকতর স্বচ্ছতার স্বার্থে’ আগে নেওয়া ৩ হাজার ৯৩০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। এখন ৪৪তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীর, অর্থাৎ ১১ হাজার ৭৩২ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নতুন করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯৩০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে গত ২৫ আগস্ট এই মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন কমিশন গঠনের পর অধিকতর স্বচ্ছতার স্বার্থে আগের নেওয়া ৩ হাজার ৯৩০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন এই বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীর অর্থাৎ, ১১ হাজার ৭৩২ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নতুন করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১২ হাজার ৭৮৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। প্রথম পরীক্ষকের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে দ্বিতীয় পরীক্ষকের মূল্যায়নের কাজ শেষের পথে ছিল।

সম্প্রতি নতুন কমিশন গঠনের পর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ‘স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার স্বার্থে’ এই লিখিত পরীক্ষার সব উত্তরপত্র তৃতীয় পরীক্ষককে দিয়ে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়।

৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল গত ৯ মে প্রকাশিত হয়। তাতে ১০ হাজার ৬৩৮ জন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

এ ক্ষেত্রে ‘সম্ভাব্য বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে’ নির্বাচিত প্রার্থীদের সঙ্গে সমান সংখ্যক, অর্থাৎ ১০ হাজার ৬৩৮ জনকে যোগ করে ২১ হাজার ২৭৬ জন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচনা করে আবার ফলাফল ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।

এ ছাড়া ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে ৩ হাজার ৪৮৭টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে অধিযাচন পাঠানো হয়েছে।

দুই স্তরে পদোন্নতি, গ্রেড-১ পাবেন বঞ্চিত অতিরিক্ত সচিবরা : সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, সরকার অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেবে। এ ছাড়া বঞ্চিত যারা অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির পর অল্প সময়ের মধ্যে অবসরে যাবেন, তাদের গ্রেড-১ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়নের জন্য নতুন করে ফিটলিস্ট করা হচ্ছে। এ কাজটা এসএসবির মাধ্যমে শিগগিরই শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দ্রুত সময়ে শুরু হবে। যেহেতু অনেকের পদোন্নতি দেওয়ার জন্য পদ দেওয়া যায়নি। কিন্তু ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি বাদ পড়া আরেকটা বিষয়। যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব আরেকটা।’

মোখলেস উর রহমান বলেন, ‘বঞ্চিত যারা অতিরিক্ত সচিব, পদোন্নতি পেয়েছেন ১৩ দিনে তিন পদোন্নতি। এটা বিষয় না। তারা সারা বছরই বঞ্চিত ছিলেন। এই বঞ্চিত যারা অতিরিক্ত সচিব হয়ে চাকরির শেষ প্রান্তে, সিদ্ধান্ত হয়েছে গ্রেড-১ দিয়ে তাদের পদোন্নতি দেব। অনেকের এক মাস আছে, ১৫ দিন আছে, ২০ দিন আছে। এটা আমি মনে করে অনেকের পদোন্নতি হবে এবং সামাজিক, পারিবারিক, আর্থিকভাবে তারা উপকৃত হবেন। এটার জন্য তারা চাকরি করেন। দাবি করার আগেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অন্যান্য ক্যাডারের পদোন্নতি বিধি মোতাবেক শুরু হবে জানিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘আর নতুন করে দল বেঁধে দাবি করার কিছু নেই। যে বিষয়গুলো চিহ্নিত, সে বিষয়গুলো সরকার বিধি মোতাবেক যার যতটুকু প্রাপ্য সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’