নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় তানজিদা আক্তার পপি নামের এক গৃহবধূকে হত্যা মামলায় স্বামী হীরা চৌধুরীকে (৩৩) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হীরা চৌধুরী ফতুল্লা থানার পূর্ব লামাপাড়ার ওমর চৌধুরী তুহিনের ছেলে। সেই সঙ্গে নিহত তানজিদা আক্তার পপি ফতুল্লার বক্তাবলীর রাজাপুরের মৃত আলী আশরাফের মেয়ে। তারা উভয়ে পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেন।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. কাইউম খান এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ২০২১ সালের ২৬ মে ফতুল্লা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় হীরা চৌধুরী নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির বলেন, উভয় পরিবারের সম্মতিতে হীরা চৌধুরীর সঙ্গে পপির বিয়ে হয়। বিয়ের পর পপির কাছ থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নানা অজুহাতে টাকা দাবি করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে সবসময় চাহিদা পূরণের চেষ্টা করতেন পপির বাবার বাড়ির লোকজন। জমি বিক্রি করেও মেয়ের সুখের জন্য চাহিদা পূরণ করেছেন পপির মা তাসলিমা বেগম।
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ হত্যার আগের দিন দুপুরেও তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এসেছেন পপির মা। পরদিন ফোন করে জানানো হয়, তার মেয়ে শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে রয়েছেন। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তার মেয়েকে গলাকেটে হত্যা করেছে তারই স্বামী। এ ঘটনায় ভিকটিমের ছোট ভাই মো. শাকিল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার বিচার কার্যক্রম শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।