টেলিভিশন নাটক, ওটিটি কিংবা বড় পর্দা তিন মাধ্যমেই বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন লাক্স তারকা মৌসুমী হামিদ। বিজয়ের মাসে অর্থাৎ আগামী ৬ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘নয়া মানুষ’। এটি নির্মাণ করেছেন সোহেল রানা বয়াতি। সিনেমা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর
এই মুহূর্তের ব্যস্ততা
অনেক দিন পর বড় পর্দায় আমার নতুন সিনেমা আসছে। এখন সিনেমাটির প্রমোশনের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছি। তবে শুটিংয়ের ব্যস্ততাও আছে।
তা ছাড়া এ সিনেমায় আমার চরিত্রটি সিনেমার গল্পের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। মাসুদ রেজার চিত্রনাট্যে নতুন পরিচালক দিয়ে কাজ করা। সবাই অনেক শ্রম দিয়ে সিনেমাটি শেষ করেছি।
চরিত্রের চ্যালেঞ্জ
অনেক চরিত্রেই অভিনয় করেছি। তবে এটা নতুন অভিজ্ঞতা। হিন্দু পরিবারের স্বামী হারা সন্তান নিয়ে স্ত্রীর গল্প। আমার চরিত্রটি সিনেমার গল্পের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আমার কাছে গল্প এবং চরিত্র অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শোনার পর অনেক ভালো লাগল, তা ছাড়া এমন চরিত্র আগে কখনো করিওনি। সবকিছু মিলিয়ে একটা নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন অভিজ্ঞতা। পুরো সিনেমাটির শুটিং শেষ করাটাই এখানে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। অনেক শ্রম দিয়ে কাজটি করেছি। শুধু আমি না, প্রত্যেকটা শিল্পীই অনেক খেটেছেন কাজটির জন্য।
বাজেট প্রতিকূলতা
সিনেমার শুটিং শুরু করেছিলাম ২০২২ সালে। কিছুদিন আগেও রি-শুট করেছি। দুই বছরের লম্বা সময় নিয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাজেটের প্রতিকূলতা তো আছেই। নতুন পরিচালকদের প্রতি কেউ ভরসা রাখতে চান না। তা ছাড়া এটি কোনো বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারেও না। বাজেট ম্যানেজ করতে অনেক সময় লেগেছে। ভেঙে ভেঙে শুট করেছি। এমন হয়েছে, ১০ দিনের বাজেট ম্যানেজ করতে পারলেই সঙ্গে সঙ্গে সবাই মিলে গিয়ে শুটিং করেছি। এরপর আবার পাঁচ দিনের শুটিং করে চলে এসেছি। এভাবেই কাজটা করতে হয়েছে।
নামমাত্র পারিশ্রমিক
নতুন পরিচালক, অসাধারণ গল্প, অদ্ভুত সুন্দর লোকেশন, তা ছাড়া সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন জাতীয় পুরস্কার পাওয়া কমল দাদা সবকিছু মিলিয়ে সুন্দর একটা কাজ করেছি। পারিশ্রমিক নিয়ে ভাবিনি। এখানে যারাই কাজ করেছেন তাদের এখনো পারিশ্রমিক দিতে পারেননি পরিচালক। আমরা সবাই নামমাত্র পারিশ্রমিকে কাজটা করেছি। সিনেমাটি বিক্রি করে বা স্পনসর পেলে তখন সেটা দেবে।
নির্মাতার পাশে শিল্পী
পরিচালক বাজেট-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আগেই স্পষ্ট করে নিয়েছেন আমাদের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছে, কোনো স্পনসর পাইনি, নান্দনিক নাট্যদল স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি সিনেমা নির্মাণ করতে চাইছি। তখন আমি তাকে বলেছিলাম স্ক্রিপ্ট পাঠাও। স্ক্রিপ্ট পড়ার পর টাকাপয়সার জন্য চিন্তা করিনি। তা ছাড়া এটাই প্রথম না, আমার পুরো ক্যারিয়ারে অনেক পরিচালককেই ছাড় দিয়েছি। যদি স্ক্রিপ্ট ভালো হয়, তখন অর্থের ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করিনি। কাজটা করেছি।
বিনিময় ফল শূন্য
একজন শিল্পী হিসেবে ছাড় দেওয়া আমার দর্শন। স্ক্রিপ্ট ভালো হলে বা গল্প ভালো হলে পেমেন্টের জন্য কখনো কাজ বন্ধ করে দিইনি। আমি কাজ করেছি। তার পরবর্তী সিনেমায় রাখবে কি না সে আশায় কোনো কাজ করিনি। কাউকে বিপদের সময় সাহায্য করলে সে প্রতিবার তার বিপদের সময়েই স্মরণ করবে। ভালো সময়ে কখনো স্মরণ করবে না।
তবে দেখা গেছে, ওইসব পরিচালক পরে আর আমাকে মনে রাখেন না। অভিমানের কারণে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ক্যারিয়ারে এমন অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। কোনো পরিচালকের প্রথম সিনেমা মুক্তির পর তার পেছনে অনেক প্রযোজক, নায়ক, নায়িকা চলে আসেন। তারা যখন বড় বাজেটের সিনেমার কাজ পান, তখন আমাকে আর তাদের মনে থাকে না। প্রথম প্রথম খুব মন খারাপ হতো। ভাবতাম যখন তাকে কেউ চিনত না, তখন আমি তাকে কাজটা করে দিলাম। এখন বড় হাউজের কাজ করছে অথচ আমাকে একবারও ডাকল না।
এটা দুনিয়ার নিয়ম না, তবে আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে অনিয়ম করা। আমাদের বিপদের সময় যখন কেউ পাশে থাকে, ভালো সময় আমরা তাদেরই সবার আগে ভুলে যাই। কখনো কখনো খুব অভিমান হতো, কিন্তু এখন আর অভিমান করি না। এখন চিন্তা করি, যে কাজটা করব, মন থেকে করব। ভালোভাবে করার চেষ্টা করব। কারও থেকে কোনো কিছুই আশা করব না। তাহলে আর মন খারাপ হবে না, অভিমান হবে না। মেনে নিয়েছি, যেখানে শিল্পীর শিল্পের কদর হয় না, সেখানে অভিমানের মূল্য কে দেবে?
ওটিটির সুখবর
সামনে একটা ওয়েব ফিল্মের কাজ করব। তবে সে বিষয়ে এখনই বিশেষ কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই শুটিং শুরু হয়েছে। তবে আমার অংশের শুটিং এখনো শুরু হয়নি। কিছুদিন পর অংশ নেব।